নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি আদালত পরিচালনার যে সিদ্ধান্ত আগে নেওয়া হয়েছিল, প্রধান বিচারপতির আদেশে তা এখন স্থগিত থাকবে। রোববার (৩ মে ২০২৬) রাতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগের (চেম্বার আদালতসহ) সপ্তাহের প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবারের ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।”
এর আগে, গত ১৯ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল যে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সপ্তাহে দুই দিন (বুধ ও বৃহস্পতিবার) হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ চলবে। হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তির পর থেকেই সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্তের শুরু থেকেই সাধারণ আইনজীবীরা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা আদালতের প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং এই সিদ্ধান্তকে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের জন্য অসুবিধা হিসেবে চিহ্নিত করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, সরাসরি শুনানির মাধ্যমেই ন্যাচরাল জাস্টিস বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সহজ হয়।
আইনজীবীদের এই জোরালো প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ভার্চুয়াল কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিল। এর ফলে এখন থেকে সুপ্রিম কোর্টের সব বিভাগের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে সশরীরে পরিচালিত হবে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এই নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। তারা মনে করছেন, এর ফলে বিচারিক কার্যক্রমেও গতিশীলতা ফিরবে।