আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সরকারিভাবে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকলেও ইরানে গোপনে জাল বিস্তার করছে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’। একটি গোপন চোরাচালান চক্রের মাধ্যমে দেশটিতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট টার্মিনাল পাচারের মাধ্যমে এই সংযোগ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান সরকার দেশজুড়ে কঠোর ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি করে। মূলত সরকারের এই নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ এড়াতেই বিকল্প পথ হিসেবে স্টারলিংক ব্যবহার করছে সাধারণ মানুষ ও অধিকারকর্মীরা।
বিবিসির প্রতিবেদনে সাহান্দ (ছদ্মনাম) নামে এক ব্যক্তি এই গোপন অভিযানের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, সীমান্ত দিয়ে স্টারলিংক ডিভাইসগুলো ইরানে প্রবেশ করানো একটি ‘অত্যন্ত জটিল অভিযান’। এই ডিভাইসগুলো এমনভাবে তৈরি বা সেটআপ করা হয় যাতে কর্তৃপক্ষের শাটডাউন বা নজরদারি পুরোপুরি এড়িয়ে বৈশ্বিক ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়া যায়। সাহান্দ বলেন, “যদি একজন অতিরিক্ত ব্যক্তিও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে, তবেই আমাদের এই ঝুঁকি সার্থক।”
পাচার হওয়া এই টার্মিনালগুলোর অর্থায়ন নিয়ে সাহান্দ জানান, এই অভিযানে কোনো রাষ্ট্র বা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা অর্থ দেয় না। মূলত বিদেশে বসবাসকারী ইরানি নাগরিক এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির মানুষদের সাহায্য করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরাই এই টার্মিনাল কেনা ও পাঠানোর খরচ বহন করেন।
ইরানের আন্দোলনকারী ও সাধারণ নাগরিকদের মতে, মাঠপর্যায়ে কী ঘটছে তা বিশ্ববাসীকে জানানোর জন্য ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। একটি টার্মিনাল ব্যবহার করে একসঙ্গে অনেক মানুষ সংযোগ নিতে পারে, যা বিচ্ছিন্ন জনপদগুলোতে তথ্যের আদান-প্রদান সচল রাখছে। সাহান্দ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই টার্মিনালগুলো তাদের হাতেই থাকা উচিত, যারা পরিবর্তনের পক্ষে এবং সত্য প্রকাশ করতে চায়।”
উল্লেখ্য, ইরানে স্টারলিংক প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো আইনিভাবে নিষিদ্ধ। তবে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি আকাশ থেকে সংকেত গ্রহণ করায় স্থানীয় ক্যাবল বা টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল হতে হয় না, যা ইরান সরকারের জন্য এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা কঠিন করে তুলেছে। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধেও স্টারলিংকের অনবদ্য ভূমিকা বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়েছিল।