তনু হত্যা মামলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১০ বছর পর তদন্তে গতি

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ণ
তনু হত্যা মামলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১০ বছর পর তদন্তে গতি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার দীর্ঘ ১০ বছরের অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ আগ্রহ ও নির্দেশনায় এই মামলার তদন্তে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

আইনমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী এই মামলার বিষয়ে কতটা আন্তরিক তা বোঝা যায় তার ব্যক্তিগত তদারকিতে। তিনি বলেন, “তনু হত্যা মামলার তদন্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঈদের দিন ফোনে মেসেজ পাঠান। পরবর্তীতে আমি তাকে মামলার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত অবহিত করি।”

মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় ও নির্দেশনার ফলেই এক দশকের জট খুলতে শুরু করেছে এবং ইতিমধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মামলার অগ্রগতি নিয়ে আইনমন্ত্রী একটি গণমাধ্যমকে জানান, “ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলেও আইন মন্ত্রণালয়ও এই বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।”

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত ১০ বছরে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া সম্ভব হয়নি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এখন সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এসব কার্যক্রমের দৃশ্যমান ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ১০ বছর আগে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধারের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ সময় তদন্তে কোনো কিনারা না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ছিল। বর্তমান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই তৎপরতায় বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

মন্তব্য করুন