নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের যে স্বপ্ন বুনেছিল বাংলাদেশ, মিরপুরের আকাশে বৃষ্টির সাথে সাথে সেই স্বপ্নও যেন ধুয়ে গেল। আজ শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে লিটন দাসের দল। এর ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হলো।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ১৫ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশ বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয়। জবাবে জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৫ ওভারে ১০৩ রান। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা অবশ্য মোটেও সুখকর ছিল না।
বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামের তোপে শুরুতেই কাঁপতে থাকে কিউইদের টপ অর্ডার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ক্যাটেন ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভারকে সাজঘরে ফেরান শরীফুল। দুই ব্যাটারই ব্যক্তিগত ১ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। উইকেটের পেছনে দারুণ দক্ষতায় দুটি ক্যাচই তালুবন্দি করেন অধিনায়ক লিটন দাস।
দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে ক্লিভারের আউটটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। শরীফুল ও লিটনের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল সাড়া না দিলেও আত্মবিশ্বাসী লিটন কালক্ষেপণ না করে রিভিউ নেন। আল্ট্রা-এজে স্পাইক ধরা পড়লে আম্পায়ার নিজের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বাধ্য হন।
এক পর্যায়ে নিউজিল্যান্ড চাপে পড়লেও লক্ষ্য ছোট হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা আর কোনো বড় বিপর্যয় হতে দেয়নি। নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেট হারিয়ে এবং কয়েক বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সফরকারীরা। বাংলাদেশের পক্ষে শরীফুল ইসলাম নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও অন্য প্রান্ত থেকে কাঙ্ক্ষিত সহায়তা না আসায় জয় নিশ্চিত করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
খেলা শেষে দলের এক সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, "বৃষ্টির কারণে উইকেট কিছুটা পিচ্ছিল ছিল এবং কন্ডিশন ব্যাটারদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবুও ১০৩ রানের পুঁজি নিয়ে আমরা লড়াই করার চেষ্টা করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত সিরিজটা জিততে না পারাটা হতাশার।"
উল্লেখ্য, সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটিও বৃষ্টির কারণে পণ্ড হয়েছিল। ফলে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের জয় এবং আজকের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জয়ে সিরিজটি সমতায় শেষ হলো। টাইগারদের সামনে সুযোগ ছিল ঘরের মাঠে কিউইদের বিপক্ষে আরেকটি সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ার, কিন্তু বেরসিক বৃষ্টি আর ব্যাটিং ব্যর্থতায় তা অধরাই রয়ে গেল।