ট্রাম্পের সাথে অস্বাভাবিক সখ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহার: ফিফা প্রধানের বিরুদ্ধে ১ লাখ মানুষের অভিযোগ

প্রকাশ: বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পের সাথে অস্বাভাবিক সখ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহার: ফিফা প্রধানের বিরুদ্ধে ১ লাখ মানুষের অভিযোগ
একসঙ্গে উপস্থিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবার আইনি ও নৈতিক জটিলতায় রূপ নিয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা এবং সংস্থার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার মৌলিক নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নীতিগত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ। পুনরায় ফিফা সভাপতি পদের নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া ইনফান্তিনোর জন্য এই ঘটনা বড় ধরনের প্রশাসনিক সংকট তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক একটি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ শুরুর পূর্বে ‘রিবুট ফিফা’ নামের একটি আন্তর্জাতিক প্রচারণা মঞ্চ গঠিত হয়েছিল। ফিফার অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতি চিহ্নিত করাই ছিল যার মূল লক্ষ্য। পরবর্তীতে টুর্নামেন্টে ফোলারিন বালোগানের ওপর অর্পিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বাতিল হয়ে যাওয়া ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্পের অনিয়মকেও এই প্রচারণার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে ৮টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সংবলিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অধিকারকর্মী সংগঠন ‘ফেয়ার স্কয়ার’ এবং রিবুট ফিফার যৌথ উদ্যোগে প্রেরিত ওই চিঠিতে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একই বিষয়ে প্রথম অভিযোগ দাখিল করা হলেও নীতি নির্ধারক কমিটি কোনো সদুত্তর দেয়নি। তবে সম্প্রতি নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন নির্বাচিত সদস্য এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

ফেয়ার স্কয়ারের চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, ফুটবলের প্রশাসনিক সততা ও সুনাম রক্ষার দায়িত্বে থাকা স্বাধীন বিচারিক সংস্থাকে অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও কঠোরতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ১ লাখ মানুষের সাক্ষর প্রমাণ করে যে, বিষয়টি নিয়ে বৈশ্বিক জনমনে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিঠিতে থাকা তথ্য প্রমাণ করে, ইনফান্তিনো অন্ততপক্ষে নিজ পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, ফুটবলের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার মৌলিক ধারা ভেঙেছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের আস্থাভাজন হওয়ার চেষ্টায় ফিফার প্রতি আনুগত্যের শর্ত লঙ্ঘন করেছেন।

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এসব গুরুতর অভিযোগ ঠিক এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন তিনি পুনরায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং কনকাকাফ ইতোমধ্যে তাঁর কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। এমনকি উয়েফার পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। সার্বিক এই জলঘোলা পরিস্থিতি আগামী নির্বাচনে তাঁর ভবিষ্যৎকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল।