ছাগল পিটিয়ে হত্যা, থানায় অভিযোগ

প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ণ
ছাগল পিটিয়ে হত্যা, থানায় অভিযোগ

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সুপারি বাগানে ঢোকার অপরাধে তিনটি ছাগল পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর কাছে কোনো বিচার না পেয়ে শেষমেশ মৃত ছাগলগুলো নিয়ে থানায় হাজির হন ভুক্তভোগী পরিবার এবং একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে দুর্গাপুর থানায় এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ছাগলের মালিক মো. ছাইদুল ইসলাম (৪৫)। এর আগে বিকেলে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মেনকিফান্দা গ্রামে এ অমানবিক ঘটনা ঘটে। এতে আনুমানিক ৩৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মেনকিফান্দা গ্রামের বাসিন্দা মো. ছাইদুল ইসলামের ৮টি ছোট-বড় ছাগল বাড়ির উত্তর পাশে মিয়া হোসেনের সুপারি বাগানের পাশে ঘাস খাচ্ছিল। ওই সময় বাগানের ভেতরে কাজ করছিলেন একই গ্রামের মো. এমদাদুল হক (৩৫), মো. রফিকুল ইসলাম (৪৫), মো. আব্দুল কাদির (৬০), মো. মোবারক হোসেন (৩৫) ও মো. নিজাম উদ্দিন (৩২)।

একপর্যায়ে বিকেলের দিকে কাজ শেষে অভিযুক্তরা ছাগল মালিক ছাইদুল ইসলামের বসতবাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে বলে, "আগামীকাল যদি তোমাদের ছাগল এই সুপারি বাগানে যায়, তাহলে ছাগলগুলো আর আস্ত থাকবে না।" এই হুমকি শোনার কিছুক্ষণ পর ছাইদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী আজুফা খাতুন ছাগলগুলো বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য সুপারি বাগানে খুঁজতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, দুটি সাধারণ ছাগল এবং একটি তিন মাসের গর্ভবতী ছাগল রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে।

ছাগল মালিক আজুফা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, "ছাগলগুলোর অপরাধ ছিল তারা বাগানে ঢুকেছিল। এই ছাগলগুলোই ছিল আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। গ্রামবাসীর কাছে গিয়েও কোনো বিচার না পেয়ে বাধ্য হয়ে মৃত ছাগলগুলো নিয়ে সশরীরে থানায় এসেছি এবং অভিযোগ করেছি।"

ভুক্তভোগীর স্বজন রমজান আলী জানান, তাঁর বোনজামাই অটোরিকশা চালিয়ে এবং বোন ছাগল-মুরগি পালন করে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছেন। সঠিক বিচার পাওয়ার আশাতেই তাঁরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের আহমেদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক ও নির্মম। আমরা ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং এটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। এই অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তি যেই হোক না কেন, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন