তিস্তায় বিলীন ৯০ পরিবারের বসতভিটা, ঝুঁকিতে আরও ২০০ পরিবার

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ণ
তিস্তায় বিলীন ৯০ পরিবারের বসতভিটা, ঝুঁকিতে আরও ২০০ পরিবার

হাবিবুল্লাহ্ সরকার, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এক রাতেই অন্তত ৯০ পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে ১২ পরিবারের সাতটি টিনের ঘর পুরোপুরি এবং আরও কয়েকটি পরিবারের ঘরের অংশবিশেষ নদীতে চলে গেছে। আকস্মিক ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা, অন্যদিকে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী আরও দুই শতাধিক পরিবার।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সিংগীজানি ও লালচামার এলাকায় তিস্তার এই ভাঙন অব্যাহত ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে হঠাৎ নদীভাঙন তীব্র রূপ নেয়। এতে রাতেই প্রায় ৭০ পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায় এবং পরদিন দুপুর পর্যন্ত আরও কয়েকটি পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন তিস্তার পানি কমলেও বুধবার রাত থেকে পানি বাড়ার সাথে সাথে হঠাৎ ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এলাকায় অন্তত চার দফায় এমন ভাঙন দেখা দিয়েছে। বসতঘরের পাশাপাশি গাছপালা, হাঁস-মুরগির খামার ও ঘরের আসবাবপত্র নদীতে চলে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে একাধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন, শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং দ্রুত তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন।

সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমানের নির্দেশনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে; স্থানীয়দের তথ্যমতে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয় এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল ইসলাম প্রামানিক এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ আগস্ট চরাঞ্চলের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হাবিজার রহমান ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সামিউল ইসলাম পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ফেলে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি জানান।

সুন্দরগঞ্জ ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ অব্যাহত রয়েছে।” গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, জরুরি ভিত্তিতে অনুমতি নিয়ে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কাজ করা হবে।

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন