নেপাল-তিব্বতে হিমবাহ ধসে মৃত বেড়ে ১২৮৭

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ণ
নেপাল-তিব্বতে হিমবাহ ধসে মৃত বেড়ে ১২৮৭

বিবিসি: হিমবাহ ধসে নেপাল ও তিব্বতে সৃষ্টি হওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৮৩ জন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৮৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে পুলিশ নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ২৮০ এবং নিখোঁজ ৪ হাজার ৭৯৮ জন বলে জানিয়েছিল। নতুন হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৭ জন এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২৮৫ জন বেড়েছে।

এদিকে, ভয়াবহ বন্যার ৯ দিন পর ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকে আজ দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এতে টানেলের ভেতরে আরও অনেকে জীবিত থাকতে পারেন বলে নতুন আশা জাগিয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন—প্রকল্পের যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং সুপারভাইজার কবির মহার্জন।

উদ্ধার অভিযানে যুক্ত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) আইনপ্রণেতা ও প্রকৌশলী শ্রী রাম নেউপানে জানান, শুক্রবার প্রথমে সঞ্জয় সাহ ও পরে কবির মহার্জনকে উদ্ধার করা হয়। টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শোনার পর নেপালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করে। উদ্ধারকারীরা ভেতরে থাকা লোকজনকে আশ্বস্ত করলে তারা ভেতর থেকে সাড়া দেন। টানেলের গভীরে আরও একাধিক ব্যক্তি আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে নিশ্চিত করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।

অন্যদিকে, তিব্বত অঞ্চলে দেখা দিয়েছে নতুন প্রাকৃতিক ঝুঁকি। হিমবাহধসে প্রথম দিন সৃষ্ট দুটি হ্রদের মধ্যে একটির পানি শনিবার কমে গেলেও গভীর রাতে ড্রোনের সাহায্যে নতুন বিপদের চিত্র ধরা পড়ে। চীন সরকারের সিসিটিভির খবরে জানানো হয়, পূর্বের হ্রদ দুটির ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ভাটিতে বড় ভূমিধসের কারণে প্রাকৃতিকভাবে আবারও বাঁধ সৃষ্টি হয়ে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে।

এর ফলে আবারও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছে থাকা উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চীনের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবেই হিমালয়ের বরফাবৃত এলাকায় এই অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় চীন ইতোমধ্যে ২ হাজার ১০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী, ত্রাণ সামগ্রী, ভারী ড্রোন ও অত্যাধুনিক লাইফ ডিটেক্টর পাঠিয়েছে।

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন