কিশোরগঞ্জ শহরের গৌরাঙ্গ বাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, কেন্দ্র ঘোষিত কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের আগের পাঁচ সদস্যের কমিটিটি কোনো কারণ ছাড়াই স্থগিত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি নিয়ে অস্থিরতা জিইয়ে রাখার পর সম্প্রতি বিভিন্ন মহলের হস্তক্ষেপে এবং ত্যাগের মূল্যায়ন না করেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদককে বাদ দেওয়া এবং শীর্ষ নেতাদের অনুগতদের স্থান দেওয়াকে ‘সিন্ডিকেট রাজনীতি’ হিসেবে দেখছেন পদবঞ্চিতরা।
অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পাভেল হাসান, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি রিয়াদ আজিজ এবং বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সানি আহমেদ খানসহ আরও অনেকে।
বক্তারা একটি গণমাধ্যমকে জানান, রাজপথের ত্যাগী নেতা রেদোয়ান রহমান ওয়াকিউরের নেতৃত্বে যারা অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, বর্তমান কমিটিতে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তারা বর্তমান কমিটিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমরা এই পকেট কমিটি মানি না। শরিফুল আলম ও তার সিন্ডিকেটকে কিশোরগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো।”
কর্মসূচি চলাকালে শহরের প্রধান সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শুরুতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানালে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে রাখেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর দাবি আদায়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তারা অবরোধ তুলে নেন।
বিক্ষুব্ধ নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, বর্তমান এই ‘সিন্ডিকেট নির্ভর’ কমিটি বাতিল করে ওয়াকিউরসহ ত্যাগী নেতাকর্মীদের পুনর্বহাল করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের অভ্যন্তরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।