খুলনার মেঘনা ক্লিনিকে চিকিৎসায় অবহেলায় মা ও নবজাতকের মৃত্যু

প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ণ
খুলনার মেঘনা ক্লিনিকে চিকিৎসায় অবহেলায় মা ও নবজাতকের মৃত্যু
প্রসূতি ও নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু

সরদার সাইদী হাসান বাবু, খুলনা ব্যুরো:  খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঠিক বিপরীত পাশে অবস্থিত মসজিদ গলির ভেতরের ‘মেঘনা ক্লিনিক’-এ চিকিৎসায় মারাত্মক গাফিলতি ও চরম অবহেলার কারণে এক প্রসূতি মা ও তাঁর সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতক সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটার পর ক্লিনিকটির মালিক তড়িঘড়ি করে স্থান ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন। অন্যদিকে, এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি গোপন রাখতে ও আইনি ঝামেলা এড়াতে ক্লিনিকের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজারের পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নিহত প্রসূতির পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকে প্রসূতি নারীর প্রসব বেদনা উঠলে কর্তব্যরত কোনো বিশেষজ্ঞ গাইনি ডাক্তারকে না ডেকে ক্লিনিকের নার্সরা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে জোরপূর্বক ‘নরমাল ডেলিভারি’ করানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালান। অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিকের মালিক কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে নিজেই শুধুমাত্র রোগীর ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) লিখে দেন, কিন্তু জরুরি মুহূর্তে কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসককে ক্লিনিকে হাজির করেননি। চিকিৎসায় এই ভুল সিদ্ধান্ত ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণেই প্রসূতি ও নবজাতক উভয়েরই মৃত্যু হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা।

ঘটনার মর্মান্তিকতার পরপরই থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ক্লিনিকের মালিক কৌশলে আত্মগোপন করেন। খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল মেঘনা ক্লিনিকে পৌঁছালে ভিন্ন নাটকের অবতারণা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রসূতি ও নবজাতকের প্রাণহানির পর ক্লিনিকের দায়িত্বরত ম্যানেজার এনায়েত সাহেব নিহতের দূরদূরান্ত থেকে আসা সহজ-সরল ও শোকাহত স্বজনদের ভুল বুঝিয়ে এবং থানা-পুলিশ কিংবা পোস্টমর্টেম (ময়নাতদন্ত)-এর বিভিন্ন জটিল আইনি প্রক্রিয়ার ভয় দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে এলাকা থেকে বিদায় করে দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, পুরো মর্মান্তিক ঘটনাটি গোপন রাখতে ও প্রশাসনিক আইনি চাপ থেকে বাঁচতে ক্লিনিকের ম্যানেজার এনায়েত মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন সাংবাদিকরা বর্তমানে ওই বিতর্কিত ক্লিনিকের লাইসেন্স, চিকিৎসা কার্যক্রমের বৈধতা ও রফাদফার বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন।

উক্ত মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে কর্মকর্তারা জানান, ক্লিনিকের ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার কারণে মা ও নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।