কুষ্টিয়ায় লালন সাঁইয়ের মাজারের দানবাক্স খুলে মিলল প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা

প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় লালন সাঁইয়ের মাজারের দানবাক্স খুলে মিলল প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা
কুষ্টিয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের মাজারের দানবাক্স খোলার পর প্রশাসনের উপস্থিতিতে টাকা গণনার দৃশ্য।

মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউরিয়ায় অবস্থিত বাউলসম্রাট মরমি সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের বিখ্যাত ধাম ও আখড়াবাড়ির দানবাক্স পুনরায় খোলা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী কঠোর নিরাপত্তার সাথে গণনা শেষে মাজারের দুটি দানবাক্স থেকে মোট ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) সকাল পৌনে ১১টার দিকে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজারের দানবাক্স দুটির সিলগালা ভেঙে আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা হয়।

জানা যায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার এবং স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাক্স খোলার পর তা নিয়ে যাওয়া হয় লালন একাডেমি ভবনের চারতলায়। সেখানে কঠোর নিরাপত্তাবলয় ও সচ্ছতার সাথে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে অনুদান ও মুদ্রার গণনা। গণনা শেষে সর্বমোট ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া যায়।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ফকির লালন সাঁইয়ের মাজারের দানবাক্স খোলা ও গণনা করা হয়েছিল। সে সময় বাক্সগুলো থেকে প্রায় ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী পরদিন (রোববার) লালন একাডেমির দাপ্তরিক ব্যাংক হিসাব নম্বরে সফলভাবে জমা করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, “সাধারণত ফকির লালন সাঁইয়ের নির্ধারিত বিভিন্ন উৎসব ও প্রথানুযায়ী বছরে চারবার মাজারের দানবাক্সগুলো খোলার নিয়ম রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩৬তম তিরোধান দিবসের মাত্র সাত দিন পর আজ দানবাক্সগুলো পুনরায় খোলা হলো এবং গণনা করে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে। আজকের মধ্যেই প্রাপ্ত এই পুরো অর্থ লালন একাডেমির নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা দেওয়া হবে।”