পুলিশে ‘নতুন বেনজীর’ এসেছেন, বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ণ
পুলিশে ‘নতুন বেনজীর’ এসেছেন, বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
রাজধানীর মুগদায় লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে সাবেক বিতর্কিত পুলিশ প্রধানের সাথে তুলনা করে ‘নতুন বেনজীর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ বাহিনীতে আবারও এক নতুন বেনজীরের আবির্ভাব ঘটেছে, যিনি নাকি প্রকাশ্যেই বলছেন সরকার নির্দেশ দিলে তিনি ক্রসফায়ার চালাবেন। পুলিশ প্রধানের এমন বক্তব্যের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ পুলিশের ওপর আবারও বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে বলে মারাত্মক আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই রাজনৈতিক নেতা।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মুগদা এলাকায় দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

গণসংযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পুলিশ প্রধানের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “আইজিপির এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিতর্কিত বক্তব্য অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে পেশাদার পুলিশ বাহিনীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ধ্বংসের হাত থেকে কোনোভাবেই বাঁচানো যাবে না।”

সাধারণ মানুষের বর্তমান জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে এনসিপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “জনগণের মৌলিক ও দৈনন্দিন সমস্যাগুলো নিয়ে সংসদ বা উর্ধ্বতন পর্যায়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছিল সরকার। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেখানে সাধারণ মানুষের কোনো সমস্যার টেকসই সমাধান হয়নি। বাধ্য হয়ে আবারও রাজপথে নামতে হয়েছে। মাসের পর মাস নির্ধারিত বিল পরিশোধ করেও সাধারণ মানুষ বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাস পাচ্ছে না। চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন দেশের সর্বস্তরের নাগরিক। ইতিহাস সাক্ষী, এই জনগণকে সীমাহীন কষ্টে ফেলার কারণেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে বিদায় নিতে হয়েছিল।”

এ সময় তৎকালীন ও বর্তমান সময়ের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বর্তমানে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা অটোরিকশা, ফুটপাত ও স্থানীয় দোকানপাট থেকে বেপরোয়া গতিতে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা চক্রবৃদ্ধি হারে সুপরিকল্পিত চাঁদাবাজির রমরমা ব্যবসা শুরু করেছেন। একসময় ছাত্রলীগ যে চাঁদাবাজির রাজত্ব পরিচালনা করত, বর্তমানে সেই একই কাজ করছে ছাত্রদল। সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনসহ বিভিন্ন স্থানে সরকারদলীয় লোকজনদের প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে এখন কে আসল ডাকাত, কে চাঁদাবাজ আর কে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী—তা নিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে চরম বিভ্রান্তি ও ভীতি তৈরি হয়েছে।”

একই সাথে দেশে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সুরক্ষার চরম ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “সামগ্রিকভাবে পুরো গণমাধ্যমের ওপর একধরনের জুলুমতন্ত্র চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ঐতিহ্যবাহী ‘আমার দেশ’ পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে যেভাবে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা প্রমাণ করে যে দেশে বর্তমানে সাংবাদিকদের বিন্দুমাত্র নিরাপত্তা নেই।” সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সতর্ক হওয়ার এবং দমনপীড়ন বন্ধ করার জোরালো আহ্বান জানান তিনি।