কুমিল্লায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে চার দোকানিকে জরিমানা

প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে চার দোকানিকে জরিমানা
কুমিল্লায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়ার নেতৃত্বে বাজারে অভিযান ও মনিটরিংয়ের দৃশ্য।

হাবিবুর রহমান মুন্না, কুমিল্লা : কুমিল্লা মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে এক বিশেষ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় পণ্যের ওজনে কারচুপি, দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, সঠিক ভাউচার সংরক্ষণ না করা এবং অবৈধ ও নকল পণ্য বিক্রির মতো বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের দায়ে ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা নগদ জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা সময়জুড়ে কুমিল্লা নগরীর ব্যস্ততম বাদশা মিয়ার বাজার, কান্দিরপাড় এবং নবাববাড়ি-চর্থা এলাকাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও বিপণিবিতানে এই তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান পরিচালনাকালে বাজারগুলোতে আদা, রসুন, বিভিন্ন মুদি পণ্য, মাছ, মাংস, ব্রয়লার মুরগি এবং শাকসবজির পাইকারি ও খুচরা বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ বা ভাউচার যাচাই করা হয়। তদারকিতে দেখা যায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ওজনে কম দিচ্ছেন, টাঙানো হয়নি হালনাগাদ মূল্যতালিকা, বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করা হচ্ছে, বাজারে খোলা অবস্থায় নকল ‘বাওমা’ কয়েল বিক্রি করা হচ্ছে, জন্মদিনের পার্টি কেকের গায়ে উৎপাদনের ও মেয়াদোত্তীর্ণের কোনো তারিখ উল্লেখ নেই এবং বিদেশি বিভিন্ন প্রসাধন বা খাদ্যপণ্যে বৈধ আমদানিকারকের প্রয়োজনীয় সিল বা স্টিকার পর্যন্ত অনুপস্থিত রয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী এসব অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায়— ১. ষোল আনা স্টোর-কে ৩ হাজার টাকা, ২. আজমত আলী স্টোর-কে ২ হাজার টাকা, ৩. সুমন ক্র্যাকারি অ্যান্ড পেস্ট্রি শপ-কে ১০ হাজার টাকা এবং ৪. সদায় সুপারশপ-কে ১০ হাজার টাকা সহ মোট চারটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়।

অভিযানটি সফলভাবে পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া। এ সময় তাঁর সাথে দাপ্তরিক দায়িত্বে উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন এবং স্থানীয় বিভিন্ন মার্কেট কমিটির দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা। এছাড়া সার্বিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করে।

অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ যথাযথভাবে সংরক্ষণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং অসাধু ও মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেট ও অনিয়ম প্রতিরোধ করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এমন জোরালো অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।