ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে ভবনে তালা, ভিসি অবরুদ্ধ

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে ভবনে তালা, ভিসি অবরুদ্ধ

সুমন ঘোষ, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেনের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। 

সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়সহ প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে উপাচার্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত কিছু শিক্ষককে নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘সেইফ এক্সিট’ বা নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগের সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতাকারী সাবেক সহকারী প্রক্টর ও সহকারী অধ্যাপক শাকিল মাহমুদ শাওনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো অভিযুক্তদের দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রক্টরের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, এর আগে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রশাসন তা গ্রহণে গড়িমসি করেছে। প্রক্টরকে অপসারণ এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চার দিনের ছুটিতে গিয়েছেন, যা শিক্ষার্থীদের আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সোমবার দুপুর থেকে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সংহতি প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে উপাচার্য অবরুদ্ধ থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রক্টরের পদত্যাগ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন ও তালাবদ্ধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন