অনুদানের তালিকা নিয়ে বিরোধে ইমামের ওপর বর্বরোচিত হামলা
বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের মুলাদীতে সরকারি অনুদানের তালিকায় মুয়াজ্জিন হিসেবে নাম না দেওয়ায় এক মসজিদের ইমামকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের ডিক্রীরচর গ্রামের প্যাদারহাট সিকদারবাড়ি বায়তুল ইজ্জত জামে মসজিদের সামনে এ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।
আহত ইমামের নাম মুফতি মাহফুজুর রহমান (২৯)। তিনি কাজিরচর ইউনিয়নের বড়ইয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন রাড়ীর ছেলে। বর্তমানে তিনি মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— ডিক্রীরচর গ্রামের বাসিন্দা মিজান সিকদার (৪৫) ও তাঁর ছেলে রাকিব সিকদার (১৮)।
স্থানীয় ও মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অনুদান দেওয়ার লক্ষ্যে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে সব মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের তথ্য চাওয়া হয়। প্যাদারহাট সিকদারবাড়ি জামে মসজিদ থেকে ইমাম মাহফুজুর রহমান মুয়াজ্জিন পদে নূরে আলম সিকদার নামে এক প্রবীণ ব্যক্তির নাম তালিকায় পাঠান। এতে ক্ষুব্ধ হন একই পদে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে ইচ্ছুক রাকিব সিকদার ও তাঁর বাবা মিজান সিকদার। এ নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইমামের সঙ্গে তাঁদের বাকবিতণ্ডা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, বুধবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায় শেষে ইমাম মাহফুজুর রহমান মসজিদ থেকে বের হওয়া মাত্রই ওত পেতে থাকা মিজান সিকদার ও তাঁর ছেলে রাকিব সিকদার তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত করা হয়। পরে মুসল্লিরা এগিয়ে এসে ইমামকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত ইমাম মুফতি মাহফুজুর রহমান জানান, "গ্রামের মসজিদ হওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো বেতনভুক্ত মুয়াজ্জিন নেই। নূরে আলম সিকদার ও রাকিব সিকদার— দুজনেই পর্যায়ক্রমে আজান দেন। তবে নূরে আলম বয়সে জ্যেষ্ঠ হওয়ায় মসজিদ কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর নামই তালিকায় পাঠানো হয়েছিল।"
এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে আহত ইমামের বাবা মোশাররফ হোসেন রাড়ী বাদী হয়ে অভিযুক্ত মিজান সিকদার ও রাকিব সিকদারকে আসামি করে মুলাদী থানায় লিখিত মামলা দায়ের করেছেন।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সোহেল রানা জানান, এ বিষয়ে এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এআইএল/সকালবেলা
|