তীব্র গরমে মাটির নিচেই সেদ্ধ হচ্ছে আলু, দক্ষিণ কোরিয়ায় রেকর্ড তাপপ্রবাহ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ণ
তীব্র গরমে মাটির নিচেই সেদ্ধ হচ্ছে আলু, দক্ষিণ কোরিয়ায় রেকর্ড তাপপ্রবাহ
দক্ষিণ কোরিয়ায় নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের কারণে জমি থেকে পচে যাওয়া আলু তুলছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

দক্ষিণ কোরিয়া জুড়ে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশটির কৃষি খাত। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গ্যাংওন প্রদেশের কিছু এলাকায় মাটি থেকে তোলার আগেই গরম তাপে নরম হয়ে সেদ্ধ আলুর মতো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আলুর ক্ষেত।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংগু কাউন্টির এই চরম দুর্ভোগের চিত্র। কৃষকেরা জানিয়েছেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও সুস্থ দেখাচ্ছিল এমন আলুর ক্ষেত খুঁড়ে তারা এখন পচা ও সেদ্ধ আলু পাচ্ছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত লি সাং-হিউক নামের এক বয়স্ক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর চার দশকের জীবনে আলুর এমন ভয়াবহ অবস্থা তিনি আর কখনও দেখেননি।

ছত্রখান শাকসবজি ও ফলমূলের ফলন:

কেবল আলু নয়, তীব্র তাপদাহের প্রভাব পড়েছে অন্যান্য শাকসবজি ও ফলমূলের ওপরও। গ্যাংওন ও আশপাশের এলাকায় অনেক বাঁধাকপি রোদ ও গরমে ক্ষেতেই পচে যাওয়ায় তা ট্রাক্টর দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। প্রখর রোদে আপেলে দাগ পড়ে নষ্ট হচ্ছে এবং অতিরিক্ত গরমে গাছে থাকা অবস্থাতেই ফেটে ঝরে পড়ছে পিচ ফল।

ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ও মৃত্যু:

সম্প্রতি গত ২ আগস্ট দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানে পারদ পৌঁছায় ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ১৯০৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় আধুনিক আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য রাখা শুরুর পর গত ১২২ বছরে এটিই দেশটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড।

এই চরম তাপপ্রবাহের কারণে এ পর্যন্ত অন্তত ৩১ জন মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর বাইরে তীব্র তাপে খামারের প্রায় ৯ লাখ গবাদিপশু এবং চাষ করা ১৪ লাখেরও বেশি মাছ মারা গেছে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি ও সরকারের প্রতিক্রিয়া:

সামনে সেপ্টেম্বরের ঐতিহ্যবাহী 'চুসক' উৎসবের আগে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বর্তমান সংকটের প্রেক্ষিতে কৃষি গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, সামনে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাধ্যতামূলকভাবে তাপসহনশীল আলু ও শাকসবজির জাত উদ্ভাবন ও চাষ করতে হবে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এই আবহাওয়াকে ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। জাতীয় সংকট মোকাবিলা সংক্রান্ত জরুরি সমন্বয় ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন—জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই ধরনের চরম আবহাওয়া ধীরে ধীরে বিশ্বে একটি ‘নতুন স্বাভাবিক’ বা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হতে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন