সাতক্ষীরায় ৩৫ হাজার মুক্তায় তৈরি হচ্ছে দুর্গা প্রতিমা

প্রকাশ: বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ৩৫ হাজার মুক্তায় তৈরি হচ্ছে দুর্গা প্রতিমা

অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সার্বজনীন মণ্ডপে চলছে এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ। এবার দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মাটির প্রতিমার ওপর বসানো হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তা, যা পুরো প্রতিমায় এনে দিয়েছে অনন্য এক নান্দনিক রূপ।

উপজেলার বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত এই মণ্ডপটিতে ৭০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যে এবার যুক্ত হয়েছে নতুনত্বের এই চমক। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, ১৩টি দেবদেবীর কাঠামোতে মুক্তা বসানোর কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং চলছে শেষ মুহূর্তের রং-তুলির আলতো ছোঁয়া।

দক্ষিণ বড়দল গ্রামের প্রতিমাশিল্পী প্রকাশ মণ্ডল তাঁর চারজন সহযোগী শিল্পীকে নিয়ে গত ৫ জুলাই থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে (৫২ দিন) কঠোর পরিশ্রমে তাঁরা কাঠামো নির্মাণ, মাটির কাজ, অবয়ব দান এবং অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে একে একে ৩৫ হাজার মুক্তা বসানোর কাজটি সম্পন্ন করেছেন।

শিল্পী প্রকাশ মণ্ডল জানান, দক্ষিণ ভারতীয় কয়েকটি সিনেমার মূর্তির নকশা এবং নিজের মূল ভাবনার সংমিশ্রণে তিনি এবার দেবদেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তুলেছেন। আলো পড়লেই প্রতিমার শরীরজুড়ে ঝিকিমিকি আভা ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে প্রতিমা তৈরির প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পূজা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, প্রতিমায় মুক্তার এই বিশেষ সাজসজ্জায় খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা। মণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি অর্ধেন্দু মণ্ডল জানান, ঐতিহ্য ধরে রেখে দর্শনার্থীদের নতুন কিছু উপহার দেওয়াই ছিল তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মণ্ডপে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন থাকবে।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর মণ্ডল ও স্থানীয় বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক উত্তম মণ্ডল জানান, মহালয়ার আগেই এমন ব্যতিক্রমী প্রতিমা দেখার জন্য স্থানীয় ও আশপাশের গ্রাম থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচুর মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

আয়োজকরা জানান, আগামী ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে এই উৎসব। অষ্টমীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নবমীতে ধর্মীয় যাত্রাপালার আয়োজন রয়েছে। বিজয়া দশমীর দিন বুড়িয়া এলাকার পাশাপাশি বড়দল বাজার, মধ্যম বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, বিষ্ণুপুর, ফাকরাবাদ পূর্বপাড়া ও কইসিটি এলাকার প্রতিমা একত্র করে ঐতিহ্যবাহী ‘বুড়িয়া আড়ং মেলা’র মাধ্যমে বিসর্জন দেওয়া হবে।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন, পূজা ও প্রতিমা বিসর্জনকালীন পরিস্থিতি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।