এমপি গাজী নজরুলের জামিন শুনানি আজ
অনলাইন ডেস্ক: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের জামিন মঞ্জুর হবে কি না, তা আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) জানা যাবে। বাদীপক্ষের সাথে আপস মীমাংসা হয়েছে এবং আসামির জামিনে তাদের কোনো আপত্তি নেই—আসামিপক্ষের আইনজীবীর এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের করা নতুন জামিন আবেদনের ওপর আজ শুনানি ধার্য রয়েছে।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর নজরুলের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন। পূর্বেও একই মামলায় গাজী নজরুলের জামিন আবেদন চাওয়া হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেছিলেন। ফলে আজ আপসনামা উপস্থাপন ও বাদীপক্ষের অবস্থান আদালতের জামিনের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
জামিন আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান আদালতকে জানান, নিহত মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আসামিদের সমঝোতা ও আপস সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বাদীপক্ষের জামিনে কোনো আপত্তি নেই। এই পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুলকে জামিন দেওয়া হলে মামলার মূল তদন্ত বা বিচার কার্যক্রমে কোনো প্রকার বিঘ্ন ঘটবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে অবস্থিত ন্যাম ভবনের একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উক্ত ঘটনার পর নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
উক্ত মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পরদিনই আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ)-এর কাছে হস্তান্তরিত হলে গাজী নজরুলকে আরও এক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষ হলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
অন্যদিকে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদার পক্ষে যৌথ জামিন আবেদন করা হলে আদালত মাকছুদা ইসলামকে জামিন দেন, তবে গাজী নজরুলের আবেদন নাকচ করে দেন। মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেফতার করা হয়েছে; জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং আজ তার জামিন শুনানির দিনও নির্ধারিত রয়েছে।