আর্জেন্টিনা জার্সিতে মেসির বিদায়: সতীর্থদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আবেগঘন আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক: আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় গ্রহণ করেছেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। বুয়েনস আয়ার্সের ঐতিহাসিক এস্তাদিও মনুমেন্তালে বিদায়ী ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় পায় আর্জেন্টিনা। বিদায়ী ম্যাচে নিজে একটি অসাধারণ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করিয়ে ম্যাচটিকে চিরস্মরণীয় করে রাখেন তিনি।
খেলা শেষে গ্যালারিতে উপস্থিত ৮৫ হাজারেরও বেশি ভক্ত-সমর্থকের সামনে এক আবেগঘন পরিবেশে বিদায়ী ভাষণ দেন মেসি। বক্তব্যে আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে থাকা বিভিন্ন সমালোচনা ও বিরোধিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতীর্থদের যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমর্থক ও সতীর্থদের উদ্দেশ্যে মেসি বলেন, জাতীয় দলের বড় ও ধারাবাহিক সাফল্যের চাবিকাঠি হলো দলের মধ্যকার দৃঢ় ঐক্য। দল একসূত্রে গাঁথা থাকলে পৃথিবীর যেকোনো পরাশক্তি বা বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
মেসি বলেন, ‘আমরা যখন একসঙ্গে ও ঐক্যবদ্ধ থাকি, তখন অন্য যেকোনো দলের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠি। যেকোনো বাধা অতিক্রম করার সামর্থ্য আমাদের থাকে। বড় লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।’
সমালোচকদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘কিছু মানুষ আছে, যারা এই জাতীয় দলকে জিততে দেখতে চায় না। কিন্তু আমাদের তাদের বিরুদ্ধে এক হয়ে লড়তে হবে।’ যদিও তিনি বক্তব্যে নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ করেননি, তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে এটি জাতীয় দল ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ঘিরে থাকা সমালোচকদের উদ্দেশ্যেই ছিল।
বিদায়ী বক্তব্যে নিজের দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নানা চড়াই-উতরাই ও কঠিন মুহূর্তের কথা স্মরণ করেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে বিভিন্ন সময় ইনজুরি বা নিষেধাজ্ঞায় খেলতে না পারা এবং শেষ বিশ্বকাপের সময় মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম চাপ সহ্য করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
গভীর আবেগ চেপে রেখে মেসি বলেন, ‘আমি চলে যেতে চাই না, মাঠও ছাড়তে চাই না। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে পারাটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। আমি আর্জেন্টাইন হতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত।’
জাতীয় দলের জার্সির প্রতি ভালোবাসার কথা জানিয়ে তিনি যোগ করেন, আকাশী-সাদা জার্সির রঙ তিনি সারাজীবন ভীষণ মিস করবেন। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আলবিসেলেস্তে হিসেবে বিদায় জানালেও ভবিষ্যতে গ্যালারিতে থেকে তরুণ খেলোয়াড়দের সাহস ও সমর্থন জুগিয়ে যাবেন তিনি।
দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার হয়ে রেকর্ড ২০৮টি ম্যাচ খেলেছেন লিওনেল মেসি। বহু রক্ত-ঘাম ও ত্যাগের পর জাতীয় দলকে এনে দিয়েছেন মহাদেশীয় ও বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব। শেষ ম্যাচেও তাঁর ম্যাজিক্যাল পারফরম্যান্সে জয় তুলে নিয়ে জাতীয় দলের এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের রাজকীয় যবনিকাপাত ঘটালেন এই ফুটবল ইশ্বর।