আইনি বাঁধন কাটতেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি
অনলাইন ডেস্ক: সন্তানদের আগলে রাখতে ও সঠিকভাবে বড় করে তুলতে জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আটটি বছর একই জায়গায় স্থির ছিলেন হলিউডের অস্কারজয়ী অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। প্রাক্তন স্বামী ব্র্যাড পিটের সঙ্গে আইনি অভিভাবকত্ব (কাস্টডি) চুক্তির বাধ্যবাধকতা এবং সন্তানদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার অপেক্ষায় দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা চেপে রেখেছিলেন তিনি।
তবে সম্প্রতি তাঁর কনিষ্ঠ যমজ সন্তান নক্স ও ভিভিয়েন ১৮ বছরে পা দেওয়ায় অবশেষে কেটেছে সেই দীর্ঘ আইনি বাঁধন। বহু বছর ধরে আটকে রাখা স্বাধীন জীবনযাপন এবং বিশ্ব ভ্রমণের স্বপ্ন ছোঁয়ার নতুন দিগন্ত এখন তাঁর সামনে উন্মুক্ত।
জীবনের এই নতুন ও রোমাঞ্চকর মোড়ে এসে জোলিকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে এক গভীর শূন্যতার। যে ছয়টি সন্তানকে ঘিরে এতদিন তাঁর পুরো পৃথিবী আবর্তিত হতো, তাঁদের কেউই এই যাযাবর সফরে মায়ের সফরসঙ্গী হচ্ছেন না। কনিষ্ঠ সন্তান নক্স, ভিভিয়েন এবং শাইলো লস অ্যাঞ্জেলেসের চেনা পরিবেশ ও নিজেদের পরিচিত বলয়েই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে বড় তিন সন্তান—ম্যাডক্স, প্যাক্স ও জাহারা তাঁদের নিজস্ব ক্যারিয়ার ও জীবন গুছিয়ে নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে।
সন্তানরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াচ্ছে দেখে মা হিসেবে জোলি স্বস্তি পেলেও, এতদিন ধরে গড়ে তোলা ভরা সংসার পেছনে ফেলে একা বিশ্বভ্রমণে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি তাঁর জন্য বেশ আবেগঘন রূপ নিয়েছে।
ভবিষ্যতের এই বিশ্বভ্রমণ প্রসঙ্গে জোলি জানান, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশে নিজেকে স্থায়ীভাবে বেঁধে রাখতে চান না। তাঁর ভাষায়, তিনি কিছুদিন একজন ‘যাযাবর’ হিসেবে ঘুরে বেড়াতে চান। পারিবারিক স্মৃতি ও ছবি সামলে রাখার জন্য কেবল একটি স্থায়ী বাড়ি থাকবে, আর বাকিটা সময় কাটবে ভ্রমণেই। কম্বোডিয়ায় তাঁর মালিকানাধীন নিজস্ব বাড়িটি ব্যবহার করার সুযোগ করে দেবেন স্থানীয় খেমার সংস্কৃতির সাধারণ শিল্পীদের।
মায়ের এই ঘুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে সন্তানরা পূর্ণ সমর্থন জানালেও, জোলির মোটরসাইকেল চালানো, বিমান ওড়ানো বা বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সফর করার প্রবণতা নিয়ে তারা বেশ চিন্তিত। তবে সন্তানরা মাকে বাধা না দিলেও ভ্রমণের সময় নিরাপত্তার সব নিয়ম ও সুরক্ষাকবচ মেনে চলার অঙ্গীকার আদায় করে নিয়েছে। সব দায়িত্ব সামলে এক মা এবার নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে বের হচ্ছেন—আনন্দ, শূন্যতা আর রোমাঞ্চের এক অনন্য মিশ্র অনুভূতি নিয়ে যাযাবর জীবনের সূচণা করছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।