ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
পিএম সাজ্জাদ শরীফ, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী পৌর শহরে শারমিন আক্তার রুবা (২৭) নামের এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার বিকেলে মহিলা কলেজ সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তবে নিহতের তথ্য সংগ্রহে আমতলী থানার ওসির বাধার অভিযোগে ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছর ধরে শারমিন আক্তার রুবা তার মাকে নিয়ে আমতলী পৌর শহরের ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। সেখানে আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতির ছেলে রাহাত ফকির নিয়মিত যাতায়াত করতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা কখনো স্বামী-স্ত্রী আবার কখনো প্রেমিক-প্রেমিকা পরিচয়ে চলাফেরা করতেন। বুধবার সকালে তাদের মধ্যে ঝগড়া ও কান্নার শব্দ শুনেছেন প্রতিবেশীরা।
বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রাহাত ফকির একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রুবাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ হুমায়ুন আহমেদ সুমন তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাহাত ফকির দাবি করেন, রুবা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন হাসপাতালে পৌঁছে প্রভাবশালী কিছু নেতার উপস্থিতিতে নিহতের মা ও মরদেহ নিয়ে গোপন বৈঠক করেন।
অভিযোগ উঠেছে, রহস্যজনক এই মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকদের ওই কক্ষে প্রবেশে বাধা দেন। পরবর্তীতে মরদেহ ও নিহতের মাকে থানায় নেওয়া হলেও সেখানে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এমনকি নিহতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকা রাহাতের সাথে ছবি ও কিছু আবেগঘন পোস্ট রহস্যজনকভাবে মুছে ফেলা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, "মৃত্যুর সঠিক রহস্য উদঘাটনে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।"
বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই খুদা জানান, "ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হত্যার প্রমাণ মিললে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধার বিষয়টিও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ