প্রেমের টানে চীনা যুবক নবীনগরে, এলাকায় নানা আলোচনা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রেমের টানে চীনা যুবক নবীনগরে, এলাকায় নানা আলোচনা

সামজাদ জসি, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: ভার্চুয়াল জগতের সীমানা পেরিয়ে সুদূর চীন থেকে প্রেমের টানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ছুটে এসেছেন এক চীনা যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা প্রেমের টানে সিয়া আইলি (Jia Aili) নামের ওই যুবক এখন অবস্থান করছেন নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের নীলনগর গ্রামে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যেমন ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি স্থানীয় সচেতন মহলে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া গ্রামের মরহুম রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে স্বপ্না আক্তারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লুজোউ শহরের লুজিয়ান এলাকার বাসিন্দা সিয়া আইলির। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সেই সম্পর্কের টানেই গত সোমবার (১৫ জুন) রাতে বাংলাদেশে পা রাখেন এই চীনা যুবক। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নবীনগর পৌর এলাকার আলীয়াবাদ গোল চত্বর থেকে স্বপ্না আক্তার নিজেই সিয়া আইলিকে রিসিভ করেন। বর্তমানে তাঁরা স্বপ্নার মামাবাড়ি নীলনগর গ্রামে অবস্থান করছেন।

স্বপ্না আক্তার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, সিয়া আইলি মূলত স্বপ্নাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশে এসেছেন। আগামীকাল বুধবার (১৭ জুন) আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁরা ব্রাহ্মণবাড়ীয়া আদালতে যাবেন। স্বপ্না আরও জানান, আদালতের প্রক্রিয়া শেষে ওই চীনা যুবক ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন এবং এরপরই ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

এদিকে বিদেশি যুবকের আগমন ও বিয়ের খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। সিয়া আইলিকে একনজর দেখতে আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে উৎসুক মানুষ নীলনগর গ্রামে ভিড় জমাচ্ছেন।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে কেবল কৌতূহলই নয়, কিছুটা উদ্বেগও লক্ষ্য করা গেছে। এলাকার সমাজসচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয় এবং মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়েছে সত্য, তবে এর নেতিবাচক বা ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলোও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

স্থানীয়দের একাংশের মতে, ভিন্ন সংস্কৃতির, ভিন্ন ভাষার এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপটের একজন মানুষের সাথে হুট করে এভাবে জীবন জড়ানো এক ধরণের সামাজিক অবক্ষয় ও হুজুগেরই বহিঃপ্রকাশ। অপর প্রান্তের দেশের সামাজিক অবস্থা কিংবা ওই যুবকের পারিবারিক ও আইনি সঠিক ব্যাকগ্রাউন্ড না জেনে এভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা স্বপ্নার ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন