কালিয়াকৈরে লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি

ফজলে রাব্বি, কালিয়াকৈর (গাজীপুর): ভোর রাতের মুষলধারে বৃষ্টিতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। পানির নিচে তলিয়ে গেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক ও আবাসিক এলাকা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাইনকিনী ও হরতকীতলা এলাকায় টানা প্রায় তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে এই ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে বাসাবাড়িসহ রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলবার রাতের বৃষ্টিতে পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের চন্দ্রা-রসুলপুর সড়কের ডাইনকিনী এলাকার অলিগলি ও অসংখ্য বসতবাড়ি পানির নিচে। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়া শিল্প এলাকার হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন। আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বাসা বাড়ির শোবার ঘর ও মূল্যবান আসবাবপত্র পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও কারখানার কর্মজীবীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

হরিণহাটি এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, সকালে কারখানায় কাজে যাওয়ার কথা থাকলেও ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় তিনি যেতে পারেননি। ঘরের মালামাল রক্ষা করবেন নাকি কারখানায় যাবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় আছেন তিনি।

পৌরসভার আইনজীবী এলাকার দোকানদার সাকিব জানান, রাতের বেলা হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় তিনি দোকানের কোনো মালামাল সরাতে পারেননি। ফলে পানিতে ভিজে সব মালামাল নষ্ট হয়ে তাঁর অনেক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হরিণহাটি এলাকার বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, "সামান্য বৃষ্টি হলেই এ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না।" স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হলেও পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। ফলে বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার স্থায়ী দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, "জলাবদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জনদুর্ভোগ নিরসনে পানি নিষ্কাশনে কাজ করছে কালিয়াকৈর পৌর প্রশাসন। দ্রুত পানি সরানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন