ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আরিফ হাজরা, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ জেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিটোল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে যৌথ বাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত এই নিরাপত্তা বলয় জেলার প্রতিটি কোণায় কঠোর নজরদারি জারি রেখেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস, নাশকতা বা ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহ চিহ্নিত করে সেনাবাহিনীর বিশেষ ‘কম্বিং অপারেশন’ শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি নিয়মিত চেকপোস্ট স্থাপন, যানবাহন তল্লাশি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে টহল জোরদার করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে মোবাইল কোর্ট, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্গনকারীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদান করছে।
নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, সরকারি সামগ্রী সংরক্ষণ, সাংবাদিকদের পরিচয় যাচাই এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণের জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের সহায়তায় সর্বদা প্রস্তুত থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রার্থীদের প্রতি কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় অসত্য তথ্য ছড়ানো বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের প্রতিও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, কোনোভাবেই যেন আংশিক সত্য বা গুজব ছড়িয়ে মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করা হয়।
স্থানীয় সেনা ক্যাম্প সূত্রে জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষপাতের কোনো সুযোগ নেই। জনগণের আস্থা বজায় রেখে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করছে সেনাবাহিনী।
সার্বিকভাবে, নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যেকোনো বিশৃঙ্খলা রুখতে গোপালগঞ্জে যৌথ বাহিনীর এই সমন্বিত ও কঠোর কার্যক্রম নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ