ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন ও পুনর্বিন্যাস করেছে। দলের তিন স্তরের নীতিনির্ধারণী পর্ষদ—কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা, কর্মপরিষদ ও নির্বাহী পরিষদে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিজ্ঞ রক্ষণশীল নেতাদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের সমন্বয় করা হয়েছে। টানা তৃতীয় মেয়াদে আমির হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মিয়া গোলাম পরওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের পুনর্গঠনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো নায়েবে আমির পদে এ টি এম আজহারুল ইসলামকে ১ নম্বরে রাখা, যিনি দীর্ঘ কারাবাস শেষে মুক্তি পেয়ে এবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে নায়েবে আমিরের পদ তিনটি থেকে বাড়িয়ে চারটি করা হয়েছে।
দলের নীতি নির্ধারণী ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনাকারী সর্বোচ্চ পর্ষদ 'কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ'-এর সদস্য সংখ্যা ১৯ থেকে বাড়িয়ে ২১ করা হয়েছে। এই পর্ষদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং উত্তরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ রেজাউল করিমের মতো সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতিদের অন্তর্ভুক্ত করে জামায়াত মধ্যস্তরের ও তরুণ নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছে। তবে নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকারী ২১ সদস্যের এই শীর্ষ পর্ষদে এবারও কোনো নারী সদস্যকে রাখা হয়নি। জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, যোগ্য ও সক্ষমতা তৈরি হওয়ায় এই তরুণ নেতাদের নির্বাহী পরিষদে আনা হয়েছে।
সংগঠনটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে থাকা নারী সদস্যদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে। ৮৮ সদস্যের এই কর্মপরিষদে এবার ২১ জন নারী সদস্য রয়েছেন। আগে নিরাপত্তা ও মামলার আশঙ্কায় এই নামগুলো গোপন রাখা হতো। প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন আমির শফিকুর রহমানের স্ত্রী ডা. আমিনা বেগম, নায়েবে আমির আবদুল্লাহ তাহেরের স্ত্রী ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী এবং মীর কাসেম আলীর স্ত্রী খোন্দকার আয়েশা বেগম। এছাড়া দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য সংখ্যা ৩৮৪ থেকে বাড়িয়ে ৪০২ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১৯ জনই নারী সদস্য।
সাংগঠনিক বিস্তার ঘটাতে জামায়াত এবার সারা দেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে পৃথক অঞ্চল পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে এবং তাদের নামও প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রবীণ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে জামায়াত একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, সর্বোচ্চ নির্বাহী পরিষদে নারী প্রতিনিধিত্ব না থাকা এবং পৃথক মহিলা বিভাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সুযোগ রয়ে গেছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ