এই বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে: আইনমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে একটি স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বাজেট আখ্যা দিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এই বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে। বড় লক্ষ্য বা উচ্চাভিলাষ ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় বাজেট উপস্থাপনের পর ‘গরিব মারার বাজেট’ কিংবা ‘বড়লোকের বাজেট’ বলে ঢালাও সমালোচনা করা হতো। কিন্তু এবারের বাজেটকে ঘিরে তেমন কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কারণ এই বাজেট গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী এবং কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি কোনো একদিনের চিন্তার ফল নয়; বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিকল্পনার এক বাস্তব প্রতিফলন।
বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী বলে সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়েই আমাদের এগোতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শুধুমাত্র সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, এবার কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে খাল ও নদী পুনঃখনন এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে একটি বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এই বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর সুবিধা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সরকার লুটপাট ও অর্থপাচারনির্ভর অর্থনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর এবং প্রস্তাবিত বাজেট সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা।
|