শাকিরা: সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প
১৯৭৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কলম্বিয়ার বারাঙ্কিয়া শহরে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর ছোটবেলা কেটেছে লেবানিজ ও কলম্বীয় সংস্কৃতির মিশেলে। শৈশবে স্কুলে গান গাওয়ার সময় তাকে নিজের কণ্ঠ নিয়ে নানা সমালোচনা শুনতে হয়েছে। অনেকে বলেছিল, তার কণ্ঠ সংগীতের জন্য মানানসই নয়। কিন্তু সমালোচনা তাকে দমাতে পারেনি; বরং সেই অধ্যবসায় তাকে শিখিয়েছে কীভাবে নিজের দুর্বলতাকে শক্তিতে রূপান্তর করতে হয়।
নব্বইয়ের দশকে স্প্যানিশ ভাষার গানের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। তবে ২০০১ সালে ইংরেজি ভাষার অ্যালবাম ‘লন্ড্রি সার্ভিস’ তাকে আন্তর্জাতিক তারকায় পরিণত করে। ‘হিপস ডোন্ট লাই’ থেকে ২০১০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘ওয়াকা ওয়াকা’—প্রতিটি ধাপেই তিনি গেয়েছেন সফলতার জয়গান। তার সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল এক একটি স্মরণীয় সাংস্কৃতিক মুহূর্ত।
জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেও তিনি নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতাকে ভুলে যাননি। ১৯৯৭ সালে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘পিয়েস দেসকালসোস ফাউন্ডেশন’। ২০০৩ সালে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তিনি বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষা ও কল্যাণে নিবেদিত হন। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর বাংলাদেশ সফর করে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন তারকা কেবল মঞ্চেই উজ্জ্বল নন, মানবিক প্রয়োজনেও তিনি সমান সক্রিয়।
ব্যক্তিগত জীবনের নানা চড়াই-উতরাই ও সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হওয়া সত্ত্বেও শাকিরা কখনোই ভেঙে পড়েননি। ফুটবলার জেরার্ড পিকের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের অবসানের পরও তিনি নিজের সৃষ্টিশীলতা ও সংগীতচর্চাকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছেন।
শাকিরা কেবল একজন শিল্পী নন; তিনি একজন লড়াই করা নারী, যিনি নিজের মেধা ও মানবিকতা দিয়ে বিশ্বকে বারবার মুগ্ধ করে চলেছেন। তার জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে, কঠোর পরিশ্রম আর অটল লক্ষ্য থাকলে সব সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে নিজের স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।
জান্নাত সকালবেলা
|