এইচ৫ বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ায় উরুগুয়েতে জাতীয় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা

প্রকাশ: শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
এইচ৫ বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ায় উরুগুয়েতে জাতীয় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা
বার্ড ফ্লু প্রতিরোধে খামারে জীবাণুনাশক ছিটানো ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গৃহপালিত হাঁস-মুরগির মধ্যে উচ্চমাত্রার সংক্রামক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার ‘এইচ৫’ (H5) উপধরন ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়ে।

গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দেশটির প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয় বলে এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কলোনিয়া বিভাগে বেশ কিছু খামারে আকস্মিকভাবে পাখির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে স্থানীয় পর্যায়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়। প্রাথমিক দ্রুত অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় কোনো সংক্রমণ ধরা না পড়লেও পরবর্তীতে জাতীয় রেফারেন্স পরীক্ষাগারের আধুনিক বিশ্লেষণে অতিসংক্রামক এইচ৫ এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার উপস্থিতি চূড়ান্তভাবে শনাক্ত হয়।

সংক্রমণের বিস্তার তাৎক্ষণিকভাবে ঠেকাতে আক্রান্ত খামার ও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে কোয়ারেন্টিনসহ দেশব্যাপী চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সরকারিভাবে বাণিজ্যিকভাবে নিবন্ধিত নয়, এমন যেকোনো পাখি বা হাঁস-মুরগির এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পরিবহনের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে সরকারি পোলট্রি মনিটরিং ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত নিবন্ধিত বাণিজ্যিক পোলট্রিগুলো এই কড়াকড়ির বাইরে থাকবে।

জরুরি নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সারা দেশে পাখি কেনাবেচার মেলা, নিলাম এবং জনসমক্ষে সব ধরনের পাখির প্রদর্শনী সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। বুনো ও পরিযায়ী পাখির সংস্পর্শ থেকে গৃহপালিত হাঁস-মুরগিকে শতভাগ নিরাপদ রাখতে সব ধরনের পাখিকে উন্মুক্ত স্থানে না রেখে আবদ্ধ ও ছাদযুক্ত ঘরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে আক্রান্ত খামার ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা সব সংবেদনশীল পাখি নিধন (কালিং) করে তা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে নিরাপদ অপসারণ এবং পুরো এলাকা জীবাণুমুক্ত করার কাজ জোরকদমে শুরু করেছে জাতীয় প্রাণিসম্পদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পাশাপাশি পোলট্রি খামারিদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের জৈব-নিরাপত্তা (Bio-security) প্রটোকল বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অননুমোদিত ব্যক্তি ও পরিবহনের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং খাদ্য ও পানির উৎস সুরক্ষিত রাখা।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, সাধারণত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা মূলত পাখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং খুব বিরল ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। এখন পর্যন্ত মানুষের দেহ থেকে অন্য মানুষের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি। এছাড়া সঠিক তাপমাত্রায় সেদ্ধ বা রান্না করা মাংস ও ডিম খাওয়া মানবস্বাস্থ্যের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে সাধারণ নাগরিকদের কোনো অসুস্থ বা মৃত পাখি খালি হাতে স্পর্শ না করার জোর আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

মন্তব্য করুন