বস্তা সংকটে জামালগঞ্জে ধান সংগ্রহ বন্ধ
জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: পাটের বস্তার তীব্র সংকটের কারণে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারের বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম আপদকালীন সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্বোধনের মাত্র এক মাসের মাথায় এই সরকারি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় উৎপাদিত ধান বিক্রি নিয়ে চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ কৃষকেরা।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহের মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন। উদ্বোধনের পর থেকে চলতি জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ধান কেনা স্বাভাবিকভাবে চললেও পাটের বস্তা শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এই কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে, লটারিতে বিজয়ী হয়েও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করতে পারবেন কিনা—তা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের দাবি, খোলা বাজারে দাম কম থাকায় তারা সরকারি ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রির আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু এখন গুদাম থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. অহিদ মিয়া বলেন, “দিনদশেক আগে আমি গুদামে ধান দেওয়ার জন্য সিরিয়াল (টোকেন) নিয়েছি। কিন্তু এখন পাটের বস্তা না থাকার অজুহাতে আমার ধান নেওয়া হচ্ছে না। ধান বাড়িতেই নষ্ট হচ্ছে।” সজল সরকার নামের আরেক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সংসারের খরচের টাকার জন্যই তো কষ্ট করে উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে এসেছি। কিন্তু সময়মতো ধান দিয়ে যদি টাকাই না পাই, তবে পরে এই টাকা দিয়ে আমার কী লাভ হবে?”
জামালগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম বস্তা সংকটের সত্যতা স্বীকার করে সকালবেলা-কে বলেন, “আমরা এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৮০০ টনের মতো ধান সংগ্রহ করতে পেরেছি। আসলে শুধু জামালগঞ্জ উপজেলা একাই নয়, বর্তমানে পুরো সুনামগঞ্জ জেলাজুড়েই সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে পাটের বস্তার তীব্র সংকট চলছে। ফলে আমাদের এখানেও সাময়িকভাবে ধান নেওয়া বন্ধ রাখতে হয়েছে।”
তিনি আরও আশ্বাস দিয়ে বলেন, “কৃষকদের এই সংকটের কথা চিন্তা করে আমরা ইতোমধ্যে আমাদের বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করেছি। আশা করছি খুব দ্রুতই ঢাকা বা আঞ্চলিক ডিপো থেকে পাটের বস্তার চালান চলে আসবে। বস্তা পাওয়া মাত্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনরায় ধান সংগ্রহ শুরু করা হবে।”
এআইএল/সকালবেলা
|