ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম, দেশ ও মানবতার খেদমত করা; তাই ফলাফল অনুকূলে না এলেও এতে কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ক্ষমতার মোহে নয়, বরং আদর্শিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। দেশের মানুষ যদি সেই খেদমত গ্রহণ না করে, তবে সে রায়কেও তিনি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে প্রস্তুত।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই হেভিওয়েট প্রার্থী ভোটের ফলাফল নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের যে অভূতপূর্ব জনসমর্থন ও জোয়ার দেখেছিলেন, ঘোষিত ফলাফলের সঙ্গে তার কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, বাহ্যিকভাবে নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সন্তোষজনক ছিল। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বিজয়ী শক্তি বিশেষ করে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশ ও মানুষকে জুলুম ও গুন্ডাতন্ত্র থেকে রক্ষা করা এখন সবচেয়ে জরুরি।
ভবিষ্যৎ রাজনীতি প্রসঙ্গে চরমোনাইর পীর-ভ্রাতা মুফতি ফয়জুল করীম স্পষ্ট করে বলেন, ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতার রাজনীতির চেয়ে আদর্শের রাজনীতিকে বেশি প্রাধান্য দেয়। যারা ইসলামকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজনীতি করতে চান, তারা আজীবন এই দলের সঙ্গেই থাকবেন। জোটবদ্ধ না হয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোট করলে হয়তো আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পেত, কিন্তু আদর্শের প্রশ্নে কোনো আপস করা দলের পক্ষে সম্ভব ছিল না। রিকশাচালক ও দিনমজুরসহ সাধারণ মানুষ যেভাবে নিজের খেয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়েছে, তাদের সেই অকৃত্রিম ত্যাগের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। পরিশেষে তিনি বলেন, বিজয়ী না হয়েও যারা ইসলামের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তারাই এদেশের সবচেয়ে সচেতন নাগরিক এবং তাদের নিয়েই আগামীর পথচলা অব্যাহত থাকবে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ