মহিউদ্দিন আহমেদ ,বিশেষ প্রতিবেদক: গাজীপুর ৩ আসনে শেষ মুহূর্তে ভোটের মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ততই বেড়েছে। জোটের মারপেঁচে জামাতে ইসলামির প্রার্থী বাদ হওয়ায় জয়ের সম্ভবনা প্রায় নিশ্চিত বিএনপির।
জয়ের ব্যাপারে হাল ছাড়তে নারাজ খেলাফত মজলিস, স্বতন্ত্র প্রার্থী, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থীরা। শেষ মুহূর্তে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন তাঁরা। ফলে এ আসনটিতে বহুদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটের পরিবেশ কে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমূখর করেছে।
শতভাগ জয়ের বিষয়ে আশাবাদী অধ্যাপক ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি বলেন, এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত প্রার্থিতা নয়, এটি গাজীপুর-৩ আসনের বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। বহু বছর পর দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটিকে আমি সম্মানের সঙ্গে দেখছি। নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে আমি আশাবাদী।
এবারের নির্বাচনে গাজীপুর-৩ আসনে অপর প্রার্থীরা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: ইজাদুর রহমান মিলন (ঘোড়া), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তথা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ এহসানুল হক (রিক্সা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলমগীর হোসাইন (হাতপাখা), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আশিকুল ইসলাম পিয়াল (মই), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো: নাজিম উদ্দিন (লাঙ্গল) ইসলামী ঐক্যজোটের হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমেদ (মিনার)। তবে ভোটারদের মতে এই সাতজনের মধ্যে মূল হবে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তথা ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ এহসানুল হক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: ইজাদুর রহমান মিলনের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: ইজাদুর রহমান মিলনের বক্তব্য নিতে মুঠোফোনে ফোন দিলেও রিসিভ হয়নি। তবে, জয়ের আশাবাদী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তথা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ এহসানুল হক (রিক্সা) বলেন,'দ্বীন কায়েমের জন্যই আমার দলকে ভোট দিবে জনগণ।' আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলমগীর হোসাইন (হাতপাখা) বলেন,' আমরা কোরআনের জন্যই লড়াই করি।' একই কথা জানান,ইসলামী ঐক্যজোটের হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমেদ (মিনার)।
তবে, তৌহিদী জনতা বলছে, ইসলামি দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে এদেশে নতুন কিছু হতো। নিজেরাই নিজেদেরকে সমর্থন করেনা সেখানে সাধারণ মানুষ কেমনে তাঁদের ভোট দিবে..?।
বিএনপির পক্ষ থেকে অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বৈঠক, গণসংযোগ এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তৃণমূল ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে চালাচ্ছেন চেষ্টা। জনগণের কল্যাণে কাজ করতে করছেন আহ্বান।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, স্বাধীনতার পর এ আসনটিতে বিএনপি নিজেদের দলীয় প্রার্থী পেয়েছে। এবার শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। এর আগে বিগত সবগুলো সংসদীয় নির্বাচনে আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য কালিয়াকৈর উপজেলার বাসিন্দা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী এবং একবার দলের যুগ্ন সম্পাদক গাজীপুর সদর উপজেলা এলাকার অধ্যাপক এম এ মান্নান বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। সরাসরি দলের কোনো প্রার্থী না থাকায় এ আসন থেকে কখনো বিএনপি বিজয় হতে পারেনি।
স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর এবারই দল শ্রীপুর থেকে প্রার্থী দিয়েছে। ডা: বাচ্চু একজন সজ্জন, নিরহংকারী, সহজ,সরল এবং চিকিসক হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক সুনাম রয়েছে। তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে উচ্ছ্বাস ও উৎফুল্ল দেখা গেছে। আপামর জনসাধরনের একটি’ই কথা দীর্ঘ ৪৭ বছর পর বিএনপি শ্রীপুর থেকে একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে যিনি সকলের কাছে জনপ্রিয় এবং সজ্জন ব্যাক্তি হিসেবে পরিচিত। তাই, দলমতের উর্ধ্বে এসে ভোটারদের আস্থা এখন ডা: বাচ্চু।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাজীপুর-৩ আসনে বহুদিন পূর্ব থেকেই জনগণের পাশে ছিলেন ডা: রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমানকে ইতোপূর্বে আসনটির শ্রীপুর অংশে জনসেবামূলক কোনো কাজে দেখা যায়নি। একই সাথে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এহসানুল হক কেন্দ্রীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও তৃনমূলে পরিচিতি কম। সবমিলিয়ে ১২তারিখের হিসেব-নিকেশ বুঝিয়ে দিবে ভোটারদের সমর্থনে কে ছিল।।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক গৃহিনী বলেন, আমি সারাজীবনই আওয়ামীলীগের সাপোর্ট করি। কিন্তু আমার অন্তিম মুহুর্তে তিনি (ডা: বাচ্চু) আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। পরে সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর নিয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎকের কাছে ফোন করে আমার খোঁজ নিয়েছেন। এজন্য তিনি আমার কাছে ভোট না চাইলেও আমার ভোট উনি প্রাপ্য।'
গাজীপুর-৩ সংসদীয় আসনে একটি পৌরসভা এবং দুই উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ রাখ ৬০ হাজার ১৯০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৮০ এবং ভোট কক্ষ ৯৮৯ টি।