সাড়ে চার ঘণ্টায় ঢাকার ১৩টি স্পট আকস্মিক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ণ
সাড়ে চার ঘণ্টায় ঢাকার ১৩টি স্পট আকস্মিক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর সার্বিক নাগরিক সেবা, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান এবং এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে অভূতপূর্ব এক ঝটিকা সফর পরিচালনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তের ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন সম্পন্ন করেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে শুরু হয়ে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত টানা এই পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং বেশ কয়েকটি স্থানে অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে কঠোর নির্দেশনা জারি করেন।

সফরের রুট ও পরিদর্শিত ১৩টি স্থান:

১. কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল: সকালে সফরের শুরুতেই উত্তরার এই হাসপাতালে গিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরিবেশ উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে ৭ দিনের কঠোর আলটিমেটাম দেন।

২. রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ: শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ও সামগ্রিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে সেখানে যান।

৩. মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ: পরিদর্শনের অংশ হিসেবে এই নামজাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করেন।

৪. ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ: হৃদরোগীদের সেবার মান এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন।

৫. পাইকপাড়া সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার: কর্মচারীদের বসবাসের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করেন।

৬. সরকারি বাংলা কলেজ: ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও শিক্ষাদান পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।

৭. বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (আগারগাঁও): পরিদর্শনের একপর্যায়ে সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামকে নিজ কক্ষে প্রকাশ্যে ধূমপানরত অবস্থায় দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী। নোংরা পরিবেশ ও চিকিৎসকের অনিয়ম দেখে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন এবং নির্দেশের পরপরই ওই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

৮. শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল: ওয়ার্ড ও চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

৯. ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ: নিজের প্রাক্তন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে আবেগাপ্লুত হন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়া ও বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন।

১০. ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়: বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও শিক্ষা পরিবেশ খতিয়ে দেখেন।

১১. কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার: আবাসনের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা তদারকি করেন।

১২. আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার: অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে মারাত্মক অসন্তোষ ব্যক্ত করে পুরো কোয়ার্টার এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের আলটিমেটাম দেন প্রধানমন্ত্রী।

১৩. মিরপুর-১০ নম্বরের ফুটপাত: হকারমুক্ত ফুটপাত ও জনচলাচলের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

আকস্মিক এই বিস্তৃত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় কেবল সরকারের মুখাপেক্ষী না থেকে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তিনি।