ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
এসআই শফিক, ঢাকা: আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাজধানী ঢাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও সামান্য বৃষ্টিতেই প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বছরগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও বড় ধরনের দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন নগরবাসী। তবে এই জলাবদ্ধতা নিরসনের ঝুঁকি এড়াতে সরকার ও সিটি করপোরেশনগুলো খাল পরিষ্কার ও বর্জ্য অপসারণের মতো নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এর অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কাজ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রতিদিন উৎপাদিত প্রায় ৭ হাজার টন বর্জ্যের ১৫ শতাংশই প্লাস্টিক, যা সরাসরি ড্রেন, নালা ও খালে গিয়ে পড়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে জনপ্রতিনিধি না থাকায় রক্ষণাবেক্ষণ কাজে কিছুটা স্থবিরতা আসায় এবার পরিস্থিতি বিগত বছরগুলোর চেয়েও বেশি সংকটাপন্ন হতে পারে।
রাজধানীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বেহাল দশা নগরবাসীর উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। অধিকাংশ ড্রেনে পলিথিন ও ময়লা জমে থাকায় বৃষ্টির পানি সরতে না পেরে দীর্ঘস্থায়ী জলজট তৈরি হয়। ফলে খেটে খাওয়া মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অফিসগামী যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বিশেষ করে অলিগলি ডুবে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা নগরজীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) তথ্যমতে, ঢাকার দখল হয়ে যাওয়া খালগুলোর মধ্যে মাত্র ১৫টি সঠিকভাবে খনন করলেই জলাবদ্ধতা সমস্যার প্রায় ৮০ শতাংশ সমাধান সম্ভব। স্বাধীনতার পর যেখানে ঢাকায় ৫৭টি খাল ছিল, বর্তমানে তা কমে ২৬টিতে দাঁড়িয়েছে, যার অধিকাংশেরই অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
এছাড়া বেশ কয়েকটি পাম্প স্টেশন নষ্ট থাকা এবং স্লুইসগেটগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আরডিআরসির গবেষণায় পল্লবী, মিরপুর, শ্যাওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও কাফরুলসহ বেশ কিছু এলাকাকে জলাবদ্ধতার 'হটস্পট' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এবার বর্ষায় রাজধানীবাসীকে নজিরবিহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ