লুটের সম্রাট সাবেক ডিআইজি মোজাম্মেল: গড়েছেন হাজার কোটির সাম্রাজ্য

লুটের সম্রাট সাবেক ডিআইজি মোজাম্মেল: গড়েছেন হাজার কোটির সাম্রাজ্য

ডেস্ক রিপোর্ট: পুলিশের পোশাককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দুর্নীতি, লুটপাট আর দখলের এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মো. মোজাম্মেল হক। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমি দখল, নদী ভরাট এবং বেনামে শত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে এক বিতর্কিত অধিপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ২৬ বছরের চাকরিজীবনে মোজাম্মেল হক রূপগঞ্জ, বান্দরবান, কুমিল্লা এবং সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কয়েক হাজার বিঘা জমি ও বিলাসবহুল রিসোর্ট গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে রাজধানীর উপকণ্ঠ রূপগঞ্জে প্রায় তিন হাজার বিঘার একটি আবাসন প্রকল্প এবং ১৬৫ কোটি টাকা মূল্যের বাগানবাড়ি তার দুর্নীতির অন্যতম সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে, মোজাম্মেল হক পুলিশ সদর দপ্তরের ‘ডেভেলপমেন্ট’ শাখায় দীর্ঘ ১৫ বছর কর্মরত থাকার সুবাদে বাহিনীর জমিজমা দেখাশোনার আড়ালে নিজের আখের গুছিয়েছেন। ‘আনন্দ পুলিশ হাউজিং’ নামে একটি প্রকল্প খুলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে তিনি আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করতেন। 

আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি সম্পদের বড় অংশই স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেলের নামে স্থানান্তর করেছেন। ফারজানার নামে থাকা ‘আনন্দ প্রপার্টিজ লিমিটেড’-এর বাজারমূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লার মেঘনা নদীতে বালু ফেলে কৃত্রিম চর তৈরি করে ‘মেঘনা রিসোর্ট’ এবং সুনামগঞ্জে ১০ কোটি টাকা মূল্যের বাগানবাড়ি নির্মাণের তথ্য মিলেছে।

মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে জমি দখলের ভয়াবহ সব অভিযোগ। রূপগঞ্জের বৃদ্ধ জাহের আলীকে ১৩ দিন ডিবি কার্যালয়ে আটকে রেখে অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে ৬২ বিঘা জমি লিখে নেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনাও ঘটিয়েছেন তিনি। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তিনি বর্তমানে প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। 

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মোজাম্মেল ও তার স্ত্রীর নামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে আদালতের আদেশে তাদের ৬৫ বিঘা জমি ও ২৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে থেকে এমন অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন