ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশজুড়ে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব এক ভয়াবহ ও বিপর্যয়কর রূপ ধারণ করেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এই ঘাতক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই ৩২ জন প্রাণ হারিয়েছে। রাজধানীর মহাখালীস্থ সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে (আইডিইএইচ) সর্বোচ্চ ২২ জন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় আরও ১৭ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, জেলা পর্যায়ের বেসরকারি ক্লিনিক ও বাসাবাড়িতে মৃত্যুর সঠিক হিসাব সংগৃহীত হলে এই সংখ্যা ৪৬ ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূলত ৩ থেকে ৯ মাস বয়সী টিকাবঞ্চিত শিশুরাই এই সংক্রমণের প্রধান শিকার হচ্ছে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং জন্মগত হৃদরোগের মতো জটিল ‘সহ-রোগ’ বা কো-মরবিডিটি যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে মাত্র আটটি শয্যা হাম রোগীদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও সেখানে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে। শয্যা না পেয়ে অনেক শিশুকে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং আগামী জুন মাসে ২০ মিলিয়ন শিশুকে লক্ষ্য করে একটি বিশেষ জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণত ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম ডোজ দেওয়া হলেও জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন ৬ মাস বয়স থেকেই টিকা দেওয়ার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে সরকার।
স্বাস্থ্য সচিব জানিয়েছেন, টিকার ঘাটতি মেটাতে ইউনিসেফের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে হামসহ ১০ ধরনের টিকা সংগ্রহের জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই টিকার চালান দেশে পৌঁছাতে শুরু করবে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দ্রুত এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ