চট্টগ্রামে ফ্লেভারস, মেরিডিয়ান ও উৎসব সুপারশপকে ৩৯ লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশ: রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ফ্লেভারস, মেরিডিয়ান ও উৎসব সুপারশপকে ৩৯ লাখ টাকা জরিমানা
চট্টগ্রামে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযানের সময় ফ্লেভারস বেকারির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
জাতীয় ডেস্ক : অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি ও পচা-বাসি উপাদান ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগে চট্টগ্রামের দুটি বিখ্যাত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং একটি অভিজাত সুপারশপকে মোট ৩৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।

দণ্ডিত প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—‘ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারি’, ‘মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড’ এবং ‘উৎসব সুপারশপ’। এর মধ্যে ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারিকে ১৯ লাখ টাকা এবং মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস ও উৎসব সুপারশপকে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরহান ইসলাম জানান, শনিবার দিনগত রাত ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরের তিনটি প্রতিষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জরিমানা আদেশ দেওয়া হয়।

ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারি

অভিযানে ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারির কারখানায় মানহীন ও অবৈধ ঘি উৎপাদন এবং নিম্নমানের উপাদান দিয়ে বেকারি সামগ্রী তৈরির প্রমাণ মেলে। এছাড়া পচা মিষ্টির উচ্ছিষ্টাংশ সংরক্ষণ, নোংরা কম্বল দিয়ে দই তৈরি, পোকাযুক্ত বাদাম ও নোংরা সরঞ্জাম ব্যবহারের দৃশ্য দেখা যায়। ফ্রিজারে নির্দিষ্ট মেয়াদ ছাড়া খাবার রাখা এবং আদালতের বিচারিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও প্রমাণিত হয়।

মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস

মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টসের কারখানায় চিপস ও নুডলসের মান নিয়ন্ত্রণের সঠিক ব্যবস্থা ছিল না। কাঁচামাল ম্যাংগো বারের পাল্প ভর্তি ড্রামের ভেতর পোকামাকড় ও কারখানার ফ্লোরে তেলাপোকার বিচরণ দেখা যায়। একইসাথে পোড়া তেল দিয়ে খাবার ভাজা ও ফ্লোর অপরিচ্ছন্ন রাখার তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।

উৎসব সুপারশপ

উৎসব সুপারশপে নোংরা পরিবেশে মাংস সংরক্ষণ ও বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ মোমোস রাখা এবং আমদানিকৃত বিদেশি খাদ্যে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকা কিংবা স্টিকার দিয়ে মূল তথ্য ঢেকে রাখার প্রমাণ পান আদালত। অনুমোদনহীন ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রি ও খোলা তেল ব্যবহারে জিলাপি ভাজার মতো গুরুতর অনিয়মও ধরা পড়ে প্রতিষ্ঠানটিতে।

নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী ভোক্তাস্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের কঠোর তদারকি ও সাজার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য করুন