দিনেও টানাতে হচ্ছে মশারি: গোবিপ্রবিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিক্ষার্থী হাসপাতালে

প্রকাশ: রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ণ
দিনেও টানাতে হচ্ছে মশারি: গোবিপ্রবিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিক্ষার্থী হাসপাতালে
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ (ফাইল ছবি)।

মো. ইসতিয়াক আহম্মদ আসিফ, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) আবাসিক হল ও পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যেই হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মশাবাহিত রোগ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তিতুমীর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. ফেরদৌস সালাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আবাসিক হলগুলোতে থাকা শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মশার উৎপাত এতটাই বেড়েছে যে দিনের বেলাতেও অনেক শিক্ষার্থীকে কক্ষে মশারি টাঙিয়ে পড়াশোনা ও বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। আবাসিক হলগুলোর সংলগ্ন ড্রেনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নোংরা ও স্থির পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ও জলাবদ্ধতার কারণে সেখানে এডিসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা।

হল চত্বর ছাড়াও ক্যাম্পাসের নিউমার্কেট, সেন্ট্রাল ফিল্ডসহ বিভিন্ন খোলা জায়গায় সন্ধ্যার পর মশার কামড়ে দাঁড়ানোই দায় হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অতীতে মাঝেমধ্যে লোকদেখানো ওষুধ ছিটানো হলেও তা মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। তাঁরা নিয়মিত কার্যকর কীটনাশক প্রয়োগ, দ্রুত ড্রেন সংস্কার এবং জমে থাকা পানি ও বর্জ্যের স্তূপ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তরের পরিচালক নিজামুল হক বলেন, “আমরা ডেঙ্গু ও কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে সঠিক প্রেসক্রিপশন ও নির্দেশনা নিয়েছি। আগামী পরশু থেকেই পুরো ক্যাম্পাসে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করা হবে। উদ্ভূত সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য প্রক্টর স্যারকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি গোপালগঞ্জ পৌরসভাকেও জানানো হয়েছে, তারা দ্রুত ক্যাম্পাসে ফগিং স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আহসান সৌরভ জানান, “ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়ামাত্রই আমি পরিবহন প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে দ্রুত নিজ জেলা যশোরে তাঁর পরিবারের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “মশার লার্ভা পুরোপুরি ধ্বংস করতে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীদের সবসময় মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে নিজ নিজ কক্ষ ও চারপাশ পরিষ্কার রাখাসহ ব্যক্তিগত সচেতনতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

মন্তব্য করুন