ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজশাহী, যশোর, খুলনা, মৌলভীবাজার, কুষ্টিয়া, সুনামগঞ্জ, চাঁদপুর ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচিত ও পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ শুভেচ্ছা বিনিময় দেখা গেছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা সত্ত্বেও বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা একে অপরের বাড়িতে গিয়ে ফুল ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই আচরণকে অনেকে রাজনীতিতে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
রাজশাহীতে ভোট যুদ্ধের বাইরে এই সৌজন্যমূলক রাজনীতি লক্ষ্য করা গেছে। সদর-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার রাত ৯টায় তার নিজ বাসভবনে গিয়ে তারা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং কুশল বিনিময় করেছেন।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী শফিকুল হক মিলনও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা পেয়েছেন জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের কাছ থেকে। শনিবার দুপুর ১২টায় হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদাড়িয়া পাড়ায় অধ্যাপক আজাদের বাসভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। উভয় নেতা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান এবং সংক্ষিপ্তভাবে মতবিনিময় করেন। অধ্যাপক আজাদ বলেন, ‘মিলন আমার ছোট ভাই। দীর্ঘদিন আমরা একসঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। নির্বাচনে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক। তিনি জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তাই রাজশাহী-৩ আসনের উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’
শফিকুল হক মিলন বলেন, ‘নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। মতপার্থক্য থাকলেও লক্ষ্য এক—জনগণের কল্যাণ। আমি সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। জেলা ও মহানগরের আদলে রাজশাহী-৩ আসনের উন্নয়ন করা হবে। কালাম ভাইয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই।’
রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসনের নবনির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মন্ডলও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমানের সঙ্গে ফুল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এই সময় জামায়াতের জেলা সহকারী অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও নির্বাচন মনিটরিং কমিটির প্রধান মুহাম্মদ নুরুজ্জামান লিটনও উপস্থিত ছিলেন।双方 নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানালে নজরুল ইসলাম এতে সম্মতি জানান এবং এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন ও সামাজিক বিভেদ দূর করার বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে ফুলের মালা পরিয়ে দেন জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক। ফুলের মালা পরানো শেষ হলে উভয় নেতা একে অপরকে আবারও মালা পরিয়ে সৌহার্দ্য প্রকাশ করেন।
একজন ভোটার শামসুদ্দিন রিন্টু বলেন, ‘এটা রাজনীতির সৌন্দর্য। নেতাদের এই আচরণ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। রাজনীতি প্রতিহিংসামূলক হওয়া উচিত নয়।’ আরেক ভোটার শাহিদুল ইসলাম সজিব বলেন, ‘এমন সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে এমপিরা একসঙ্গে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে পারবে।’
যশোর-৩ (সদর) আসনের বিজয়ী ধানের শীষ প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল কাদেরসহ চারজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। খুলনা-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মিষ্টিমুখ করেছেন।
মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী এম নাসের রহমান তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নানের বাড়িতে গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একইভাবে কুষ্টিয়া-৩, সুনামগঞ্জ-২, চাঁদপুর-৩ এবং চট্টগ্রাম-১ আসনের বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরাও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা প্রদর্শন করেছেন।
উভয় পক্ষের নেতারা নির্বাচনের জয়–পরাজয় স্বাভাবিক বলছেন। তবে লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ এবং এলাকায় শান্তি, উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য একসঙ্গে কাজ করা। এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণকে রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আই.এ/সকালবেলা