যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: প্রকাশিত হলো চুক্তির ১৪ দফা
প্রকাশিত ১৪ দফায় যুদ্ধবিরতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে
লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী সামরিক অভিযান বন্ধ এবং একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই প্রক্রিয়ায় ওমানের সাথেও আলোচনা করবে ইরান। ইরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে সব ধরনের মার্কিন একতরফা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানিতে ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি জব্দ থাকা তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয় করা এবং আইএইএ-এর তত্ত্বাবধানে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং তার অংশীদাররা ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে। চুক্তির শর্তাবলি পালনে একটি নির্বাহী ব্যবস্থা গঠন করা হবে। চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে চুক্তির শর্তগুলো কার পক্ষে বেশি সুবিধাজনক—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরান যদি ‘ভালো আচরণ’ বজায় রাখে, তবেই এই অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো কার্যকর হবে। পুরো বিশ্বের দৃষ্টি এখন এই চুক্তির সফল বাস্তবায়নের দিকে।
জান্নাত সকালবেলা
|