ধ্বংসস্তূপে আট মাস, বেঁচে থাকতে নিজেই পা কাটলেন ইউক্রেনীয় সেনা

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ণ
ধ্বংসস্তূপে আট মাস, বেঁচে থাকতে নিজেই পা কাটলেন ইউক্রেনীয় সেনা

অনলাইন ডেস্ক: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ময়দানে বেঁচে থাকার লড়াই কতটা নৃশংস ও ভয়ংকর হতে পারে, তারই এক লোমহর্ষক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ইউক্রেনের ৩০তম মেকানাইজড ব্রিগেডের ৪৯ বছর বয়সী সদস্য কস্তিয়ান্তিন ভ্লাসেঙ্কো। রুশ ড্রোন হামলায় এক পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর পচন থেকে বাঁচতে তিনি চিকিৎসকের সাহায্য ছাড়াই নিজের পকেটের ছুরি দিয়ে নিজের অবশিষ্ট পা কেটে ফেলেন। এরপর ধ্বংসস্তূপে দীর্ঘ আট মাস আটকে থাকার পর চালকবিহীন বিশালাকার ড্রোনের সাহায্যে আকাশে উড়ে নিরাপদ স্থানে ফিরে আসেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত গত ফেব্রুয়ারিতে, যখন খারকিভ অঞ্চলে মুখোমুখি যুদ্ধের সময় ভ্লাসেঙ্কোর ওপর তীব্র ড্রোন হামলা চালায় রুশ বাহিনী। বোমার আঘাতে তাঁর বাম পা ঘটনাস্থলেই উড়ে যায় এবং ডান পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সহযোদ্ধা নিহত হলে তিনি আহত ও পঙ্গু অবস্থায় হামাগুড়ি দিয়ে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত স্কুল ভবনের বয়লারের নিচে ছোট্ট গর্তে আশ্রয় নেন।

সেখানে চিকিৎসাবিহীন আটকে থাকার তিন মাস পর তাঁর পায়ে পচন ধরে এবং হাড় বেরিয়ে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। কোনো উপায় না দেখে এবং বেঁচে থাকার তীব্র আকুতিতে তিনি নিজের পকেটের ছুরি দিয়ে পচে যাওয়া পায়ের অংশ কেটে ফেলে টর্নিকেট দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করেন। এভাবেই চরম যন্ত্রণার মুখোমুখি হয়ে প্রায় আট মাস ধরে বোতলজাত খাবার খেয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি টিকে থাকেন তিনি।

ইউক্রেনীয় কমান্ডাররা এলাকাটিকে ‘হত্যা অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করায় স্থলপথে সাঁজোয়া যান বা পিকআপ দিয়ে তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে ব্যর্থ হন, যা রুশ ড্রোনের হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘গুরজুফ ডিফেন্স’-এর তৈরি ছয়টি পাখাযুক্ত ৯০ কেজি বহনে সক্ষম একটি ভারী ড্রোনের ওপর ভরসা করে বিশেষ মিশন পরিচালনা করা হয়।

গত ৪ অক্টোবর ড্রোনে করে প্রথমে একটি নির্দেশনামূলক ফোন ও বেষ্টনী পাঠানো হয়। ভ্লাসেঙ্কো নিজেকে প্রস্তুত করলে ড্রোনটি তাঁকে ৭০ মিটার উঁচুতে তুলে নেয় এবং ১৫ কিলোমিটার দূরে ইউক্রেনীয় সীমানায় নিয়ে আসে। পুরো অভিযানে ইউক্রেনীয় আর্টিলারি ও অন্যান্য ড্রোন সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ছাতা সরবরাহ করে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর দাবি, আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে চালকবিহীন আকাশযান ব্যবহার করে এত উঁচুতে কোনো পঙ্গু সেনাকে আকাশে উড়িয়ে আনার ঘটনা এটাই প্রথম। বর্তমানে খারকিভের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া এই ইউক্রেনীয় সেনা।

সকালবেলা / নুসরাত