এনসিপির নবগঠিত কমিটিতে আবারও যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন মাওলানা আশরাফ মাহদি

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ণ
এনসিপির নবগঠিত কমিটিতে আবারও যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন মাওলানা আশরাফ মাহদি

সকালবেলা অনলাইন: জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে আবারও যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি। এর আগে তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটিতেও যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আশরাফ উদ্দিন মাহদি বাংলাদেশের স্বনামধন্য কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) ও ইফতা সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মিসরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামী আইন ও আইনবিজ্ঞানে দ্বিতীয় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও দল গঠনের প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন আশরাফ মাহদি। জুলাই পরবর্তী জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় সার্চ কমিটির সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে তাঁর আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়। এরপর জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

এনসিপি গঠনের পর দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আশরাফ মাহদি। বর্তমানে রাজনৈতিক দলের দায়িত্বের পাশাপাশি এনসিপির সহযোগী সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

মাওলানা আশরাফ মাহদি ২০১৭ সালে অমর একুশে বইমেলা থেকে গুমের শিকার হয়ে আলোচনায় আসেন। পরে ২০২০ সালে মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় দুবাইয়ে ট্রানজিটের মধ্যে তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং গ্রেপ্তার করা হয়। পতিত আওয়ামী সরকারের শাসনামলে সরকারের সমালোচনা ও বিরোধিতার কারণে তিনি মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হন। তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামাসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

ইসলামী রাজনীতির মধ্য দিয়ে আশরাফ মাহদির রাজনৈতিক জীবনের শুরু। ইসলামী ঐক্যজোটের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত মুফতি ফজলুল আমিনীর দৌহিত্র আশরাফ মাহদি ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্র খেলাফতের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। শাপলা চত্বরের আন্দোলন থেকে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার অভিজ্ঞতা ও পরবর্তীতে জুলাইয়ে তিনি মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের সংগঠিত করার কাজে যুক্ত হন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে সাধারণ আলেম সমাজের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন এবং মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখেন।

অভ্যুত্থানের পর তরুণ আলেমদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে ‘তরুণ আলেম প্রজন্ম-২৪’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

এআইএল/সকালবেলা