ফ্রান্সে বিক্ষোভের জেরে প্যারিসে কারফিউয়ের মেয়াদ বৃদ্ধি

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ণ
ফ্রান্সে বিক্ষোভের জেরে প্যারিসে কারফিউয়ের মেয়াদ বৃদ্ধি

অনলাইন ডেস্ক: ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা নিয়ে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা চরম পর্যায়ে উন্নীত করেছে ফরাসি সরকার। নতুন করে সহিংসতা ও লুটপাটের আশঙ্কা মাথায় রেখে রাজধানী প্যারিসের বেশ কিছু সংবেদনশীল এলাকায় আংশিক কারফিউয়ের মেয়াদ আগামী সোমবার পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্সেই ও লিওঁ শহরে এই সপ্তাহান্তে বিক্ষোভের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে পুলিশ মোতায়েন ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় প্যারিসের বিশ্বখ্যাত লুভ্‌র, ওরসে এবং পিকাসো জাদুঘর শনিবার জনসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানিয়েছেন, যেসব স্থানে বিক্ষোভ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি, সেখানে কেবল অনুমোদিত শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে সুনির্দিষ্ট ও নির্ধারিত স্থানে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে। এদিকে মার্সেইতে শনিবার জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া নিস, টুলন, রুয়েন এবং গ্রেনোবল শহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতেও চলাচলে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভে ব্যাপক দাঙ্গা, লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফরাসি বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহিংসতার দায়ে ইতোমধ্যে ২১৭ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দেশজুড়ে চলমান এসব বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। ‘লা ফিগারো’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটককৃতদের প্রায় অর্ধেক ব্যক্তিরই এর আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ উগ্র-বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর তীব্র সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে ‘প্রজাতন্ত্রকে উৎখাতের অপচেষ্টা’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। জ্বালানির চড়া দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ১৭ অক্টোবর প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে ফ্রান্সের অর্থনীতি ও রাজনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সকালবেলা / নুসরাত