ইরান সমঝোতা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কের রসায়নে বড় ফাটল
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) ‘ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ডেস্ক’-এর বিশেষ বুলেটিনে এই সম্পর্কের জটিল সমীকরণ তুলে ধরা হলো।
ভিন্ন লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ৬০ দিনের মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে, কিন্তু ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই সময়সীমা ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে দেবে।
সংঘাত ও মতপার্থক্য ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপের খবর এখন আর আড়ালে নেই। এমনকি ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে অভিহিত করেছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তবে এর জবাব দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। অনেক সময় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক হয়, আবার কখনো হয় না।” ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করতে ট্রাম্পের নির্দেশ অমান্য করার ঝুঁকিও তিনি নিচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
চুক্তির বাধ্যবাধকতা ও ইসরায়েলি কৌশল চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা থাকলেও, নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন এবং নিরাপত্তা অঞ্চল ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। বিশ্লেষক জোনাথন রাইনহোল্ডের মতে, নেতানিয়াহু এই সমঝোতা চুক্তিকে ইসরায়েলি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারবেন না। বরং তিনি হয়তো এই ৬০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে সংঘাত শুরুর সুযোগ খুঁজবেন, যাতে তা ইসরায়েলের ‘নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার পদক্ষেপ’ হিসেবে প্রচার করা যায়।
ভবিষ্যৎ সমীকরণ ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেনের বক্তব্যেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করে, তবে ইসরায়েল একাই সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকবে। ট্রাম্পের ইরান-নীতি এখন ইসরায়েলিদের কাছে কতটুকু আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারবে, তা নিয়ে বড় সংশয় দেখা দিয়েছে। দুই নেতার এই ‘দুই পথের’ যাত্রা আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
জান্নাত সকালবেলা
|