দিল্লির বিমানবন্দরে কী ঘটেছে, জানালেন উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ণ
দিল্লির বিমানবন্দরে কী ঘটেছে, জানালেন উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের দিল্লির বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র ক্ষোভ ও তাৎক্ষণিক রাষ্ট্রীয় প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি দেশে ফিরে এসেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে সেখানে তাঁকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করা বা কোনো বিশেষ কক্ষে আটকে রাখা হয়নি, বরং একটি জায়গায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে তথ্য অধিদফতরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।

দিল্লিতে হেনস্থার শিকার হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমাকে কোনো বদ্ধ ঘরে আটকে রাখা হয়েছে—এমন তথ্য সঠিক নয়। আমাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসতে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আমাকে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ করলেও আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি। সেই আচরণের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই আমি দিল্লি থেকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিই।”

উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, “আমি সেখানে ব্যক্তিগত সফরে যাইনি, বাংলাদেশ সরকারের একজন আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছিলাম। ফলে আমার সাথে সেখানে যে আচরণ করা হয়েছে, রাষ্ট্রের সম্মান রক্ষার্থে তার একটি ইন্সট্যান্ট বা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। একটা পর্যায়ে ভারত কর্তৃপক্ষ খুব চেষ্টা করেছে যেন আমি ফিরে না আসি এবং আমার পূর্বনির্ধারিত কর্মকাণ্ডে অংশ নিই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে তখন আমার মনে হয়েছে, দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে একটা কড়া সিগনেচার বা বার্তা থাকা দরকার।”

উল্লেখ্য, গত রবিবার (১৪ জুন) ভারতের ‘ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন’ (আইওআরএ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনা ও বাধার মুখে পড়েন তিনি। কোনো ধরনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই তাঁকে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়। এর জের ধরে দিল্লিতে প্রবেশ না করেই তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে এই মুহূর্তে বেশ অস্বস্তি ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মন্তব্য করুন