যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাসের দীর্ঘ উত্তেজনার পর অবশেষে যুদ্ধের অবসান ঘটেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন যে, গত সোমবার থেকেই যুদ্ধের সমাপ্তি হয়েছে। যদিও সমঝোতা স্মারকটি আগামী শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে, তবে উভয় দেশই মাঠ পর্যায়ে সামরিক অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ২টা ৩২ মিনিটে ‘কূটনীতি, ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংঘাত অবসান ডেস্ক’-এর বিশেষ বুলেটিনে এই সংবাদের বিস্তারিত সমীকরণ তুলে ধরা হলো।
আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, এই শান্তি আলোচনাটি মূলত দুটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা। ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পরবর্তী ধাপে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ইরান লেবাননের ভূখণ্ডের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, লেবাননে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। ইরান এই চুক্তিতে পৌঁছানোর পেছনে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা স্বীকার করেছে।
ইরানি গণমাধ্যমগুলো এই সমঝোতাকে তেহরানের একটি বড় বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে। সামরিক কমান্ডের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের গভীর অবিশ্বাস এখনও বিদ্যমান এবং এই চুক্তি কেবল ‘উত্তেজনা কমানোর একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ’ মাত্র। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন মেরুকরণ বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
জান্নাত সকালবেলা
|