কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৪, আহত ২৭

প্রকাশ: বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:২০ অপরাহ্ণ
কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৪, আহত ২৭
কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর পার্শ্ববর্তী বেসামরিক অঞ্চল লক্ষ্য করে রাশিয়ার চালানো এক ভয়াবহ ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৭ জন।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মধ্যরাতের পর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় পুরো অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কিয়েভ নগর সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, মধ্যরাতের পর পরিচালিত এই হামলায় অঞ্চলের অন্তত সাতটি স্থান সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকাটিতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিমান হামলার তীব্র সতর্কসংকেত বা সাইরেন চালু রাখা হয়েছিল।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানান, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নগর কেন্দ্রের কাছের একটি গুরুত্বপূর্ণ গুদাম ভবন সম্পূর্ণ চুরমার ও ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি গুদাম এবং অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মেয়র আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন এবং ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হামলা প্রতিরোধে ইউক্রেনীয় বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো কাজ করেছিল বলেও জানান তিনি।

এদিকে, রাশিয়ার এসব প্রাণঘাতী ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে নিজেদের আকাশসীমা রক্ষায় মিত্রদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উন্নত 'পেট্রিয়ট' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার জরুরি সরবরাহের আবেদন জানিয়ে আসছে ইউক্রেন।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যালাস্টিক প্রতিরক্ষাসামগ্রীর চরম ঘাটতির সুযোগ নিয়েই রাশিয়া সাধারণ মানুষের ওপর এমন রক্তক্ষয়ী হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে। নিজ দেশে পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের যৌথ প্রযুক্তিগত অনুমতি পেতে গত মঙ্গলবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন জেলেনস্কি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী দল ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আক্রমণের পর থেকে বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মন্তব্য করুন