পশ্চিম তীরের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান দখলে ৩৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিল ইসরায়েল

প্রকাশ: বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩১ অপরাহ্ণ
পশ্চিম তীরের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান দখলে ৩৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিল ইসরায়েল
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি ও সামরিক তল্লাশি চৌকি।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী সামরিক আগ্রাসনের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি কেড়ে নিতে অপতৎপরতা তীব্র করেছে ইসরায়েল। এবার ওই অঞ্চলের ৭০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সরাসরি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য নতুন করে ১১৩ মিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অর্থ বরাদ্দের কড়া ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সরকারি এক উচ্চপর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে গত মে মাসে অনুমোদিত ২৫০ মিলিয়ন শেকেলের বড় মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে এই নতুন তহবিল পাস করা হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে ইসরায়েলের বিতর্কিত বসতি স্থাপন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সরাসরি ১৫৭ মিলিয়ন শেকেল বা ৫২ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ পাবে এবং আরও ১৪২ মিলিয়ন শেকেল বা ৪৭ মিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি হিসেবে অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ক্রনেসেটের অর্থ কমিটি পৃথকভাবে সংস্থাটির জন্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন শেকেল অনুমোদন দিয়েছে।

প্রকল্পটির বিস্তারিত তুলে ধরে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেন, এসব স্থানে ইহুদি ঐতিহ্যবাহী গবেষণাগার ও বিশেষ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যা এক পরম ‘জিয়োনিস্ট পদক্ষেপ’। ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন সম্পত্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকে 'ইহুদি ঐতিহ্য' বলে চিহ্নিত করার মাধ্যমে তাদের ভূমি দখলের কৌশল নিচ্ছে তেল আবিব।

স্থানগুলোর নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করা না হলেও ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বেথলেহেমের ঐতিহাসিক ‘সলোমনস পুলস’ এলাকাটি গ্রাস করা। ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বসতি স্থাপন বিষয়ক মন্ত্রণালয় পশ্চিম তীরে ১০৪টি অবৈধ ইসরায়েলি বসতি এবং ১৬০টি সামরিক আউটপোস্ট অনুমোদন করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।

চলতি বছর কেবল পশ্চিম তীরেই ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বাড়িঘর ও ভূমির ওপর ইসরায়েলি বাহিনী ও সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের ১১ হাজারের বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অগণিত প্রতিবাদ তোয়াক্কা না করে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে প্রতিনিয়ত সরকারি কোষাগার উজাড় করে অর্থ ঢালছে ইসরায়েল।

মন্তব্য করুন