শ্রীলঙ্কায় টানা বৃষ্টি ও ভারী বন্যায় ভূমিধসে ৭ জনের মৃত্যু, স্কুল বন্ধ

প্রকাশ: বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
শ্রীলঙ্কায় টানা বৃষ্টি ও ভারী বন্যায় ভূমিধসে ৭ জনের মৃত্যু, স্কুল বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক: শ্রীলঙ্কায় টানা বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ি ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত সাতজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতায় দেশটির মধ্যাঞ্চলের পার্বত্য এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার ঐতিহ্যবাহী চা উৎপাদনকারী মধ্যাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় আকস্মিক এই অতিবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উল্লেখ্য, অঞ্চলটি এখনো গত বছরের নভেম্বরে আঘাত হানা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’-এর ভয়াবহ ক্ষত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল। ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৬৪০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৪.১ বিলিয়ন ডলারে।

শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানান, দেশের মধ্যাঞ্চলে পাহাড়ের পাদদেশে ভারী ভূমিধসে দুটি বসতবাড়ি চাপা পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া বন্যার পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুজন। তিনি আরও জানান, মুষলধারে বৃষ্টি ও জমা পানিতে অন্তত ১২৯টি বাড়িঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে তিন হাজার দুর্গত মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বন্যাকবলিত ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে দেশটির নৌ ও স্থলবাহিনীর সদস্যদের তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হিরু টিভিতে প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে ডুবে যাওয়া রাস্তা পেরিয়ে সেনাসদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।

শ্রীলঙ্কার নুয়ারা এলিয়া ও বাদুল্লা জেলার পাহাড়ি ভূখণ্ড অত্যন্ত খাড়া হওয়ায় টানা বর্ষণে এসব এলাকায় প্রায়শই মারাত্মক ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি মাটির ঢাল অত্যন্ত স্যাঁতসেঁতে হয়ে আলগা হয়ে যায়, যা ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্গত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কবে নাগাদ পুনরায় চালু হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী ঘোষণা দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন