মোজতবা খামেনির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের বৈঠক

প্রকাশ: রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ণ
মোজতবা খামেনির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের বৈঠক
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের দুই বছর পূর্ণ করে তৃতীয় বছরে পদার্পণের প্রাক্কালে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে মিলিত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

রবিবার (৯ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মেহের নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, তেহরানে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ ও কূটনৈতিক নানান জটিল সমস্যা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মৌলিক চাহিদা পূরণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে শীর্ষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

বৈঠকে ইরানের ওপর আরোপিত তৃতীয় দফার চলমান বহুমাত্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, ভৌগোলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কৌশলগত ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে দীর্ঘ মতবিনিময় করেন মোজতবা খামেনি ও মাসুদ পেজেশকিয়ান। এর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন সামরিক প্রয়োজন মেটানো, প্রয়োজনীয় সরকারি সম্পদ নিশ্চিতকরণের বিকল্প উপায় এবং দেশীয় মুদ্রা রিয়াল, বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় ও জাতীয় জ্বালানি সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের নানামুখী কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

একই সাথে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংযোগ জোরদার করা এবং নতুন বাণিজ্যিক পথ উন্মুক্ত করার বিষয়টিও শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনার টেবিলে উঠে আসে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন সংস্কারপন্থী নেতা মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর দায়িত্ব পালনের প্রথম দুই বছরে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ সামরিক আগ্রাসনের ফলে চরম অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হতে হয় দেশটির প্রশাসনকে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শাহাদাতের পর দেশটির অভিভাবকত্বের শীর্ষ দায়িত্ব ও সর্বোচ্চ নেতার পদে স্থলাভিষিক্ত হন মোজতবা খামেনি। এমন প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রেসিডেন্ট ও সর্বোচ্চ নেতার এই সমন্বিত কৌশলগত বৈঠক অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন