বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের পূর্বাভাস: দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির সংকেত
স্টাফ রিপোর্টার: কয়েকদিনের বিরতি শেষে আগামীকাল সোমবার থেকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। পরবর্তী সময়ে বুধবার থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা বৃদ্ধির আভাস রয়েছে। তাছাড়া আগামী ১৩ আগস্ট কিংবা তার পরদিন মধ্য বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার প্রভাবে ১৪ আগস্ট থেকে সারাদেশে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রোববার বিকেলে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, সোমবার থেকে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। বুধবার থেকে তা দক্ষিণাঞ্চলের দিকে বিস্তৃত হতে পারে। ১৩ বা ১৪ আগস্টের দিকে মধ্য বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়ে তা ঘনীভূত হলে দেশজুড়ে বৃষ্টির তীব্রতা আরো বাড়বে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের অপর আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানান, আগামী কয়েকদিন সার্বিকভাবে বৃষ্টির প্রবণতা কম থাকলেও ১২ বা ১৩ আগস্ট থেকে তা পুনরায় বৃদ্ধি পাবে। ১৫ আগস্ট থেকে সারাদেশে অতিভারী বর্ষণ শুরু হয়ে কয়েকদিন ধারাবাহিকভাব অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ১৫ তারিখের পূর্বে রাজধানী ঢাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
রোববার রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও দেশের সর্বোচ্চ ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে রাঙ্গামাটিতে। এদিন রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ ৩৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ঢাকায় ৩৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়ার নিয়মিত সিনপটিক অবস্থায় জানানো হয়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
এর প্রভাবে সোমবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। পরদিন মঙ্গলবারও আবহাওয়ার এই ধারা বজায় থাকতে পারে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান জানিয়েছেন, দেশের নদ-নদীর পানি ও বন্যা পরিস্থিতি সার্বিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে কেবল কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এআইএল/সকালবেলা
|